জেলা প্রতিনিধিঃ
জমি না থাকায় সাধারণ নারী কোটায় মেধা তালিকায় প্রথম হয়েও পুলিশে চাকরি পাচ্ছিলেন না খুলনার মিম আক্তার। তবে সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে পুলিশ কনস্টেবল পদে ট্রেনিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে মিমকে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা টেক্সটাইল মিল পুলিশ ফাঁড়ি থেকে এসআই মিকাইল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের নোটিশপত্রটি মিমের হাতে তুলে দেন।
গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে মিমকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ ভেরিফিকেশনে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় মেধা তালিকায় প্রথম হলেও চাকরিটি তাকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মিম।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন মিম। মিমকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করে পুলিশ বিভাগ। পাশে দাঁড়ান খুলনা জেলা প্রশাসকও।
মিম আক্তার খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ৩ নম্বর আবাসিক এলাকার ১ নম্বর রোডে ডাক্তার বাবর আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া। ১৯৮৮ সাল থেকে এই রোডের আশপাশে বিভিন্ন স্থানে ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন মিমের বাবা রবিউল ইসলাম। খুলনার বয়রা ক্রস রোডে ছোট্ট একটি ভাড়াটে দোকান নিয়ে লেপতোশকের ব্যবসা করেন তিনি। দোকানটির নাম বেডিং হাউজ।
মিম বলেন, চাকরি ফিরে পেয়ে আমার ভালো লাগছে। আমি বুঝেছি গরিবের কষ্টটা কেমন? পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে যদি কখনও অসহায় মানুষ সামনে আসে তবে তার প্রতি আমার সহমর্মিতা অবশ্যই থাকবে। তাদের পাশে দাঁড়াব। যারা আমার বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
খুলনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহম্মেদ জানান, পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশনায় মিমের আবেদন আমরা গ্রহণ করেছি। ট্রেনিংয়ের জন্য মিমকে ডাকা হয়েছে। ট্রেনিং শেষে মিম চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পাবেন।
মিমের বাবা রবিউল ইসলামের পৈতৃক বাড়ি বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার বড়বাড়িয়া গ্রামে। বাবা আব্দুল লতিফ শেখ এখনও জীবিত রয়েছেন। ভিটেবাড়ির জমিটুকুও মিমের দাদা আব্দুল লতিফের নামে রয়েছে। অভাব অনটনের দায়ে পরিবার নিয়ে গত ৩২ বছর খুলনা শহরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন মিমের বাবা আব্দুল লতিফ।
আগামী ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় খুলনার পুরাতন পুলিশ লাইন্সের রিজার্ভ অফিস এবং পরের দিন (৩০ ডিসেম্বর) রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে মিমকে।
