ঝিনাইদহের উন্নয়নের প্রথম কারিগর ছিলেন মন্ত্রী বশির উদ্দিন মাজমাদার - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, নভেম্বর ০৯, ২০২৫

ঝিনাইদহের উন্নয়নের প্রথম কারিগর ছিলেন মন্ত্রী বশির উদ্দিন মাজমাদার

ঝিনাইদহের উন্নয়নের প্রথম কারিগর ছিলেন মন্ত্রী বশির উদ্দিন মাজমাদার
ঝিনাইদহের উন্নয়নের প্রথম কারিগর ছিলেন মন্ত্রী বশির উদ্দিন মাজমাদার

 


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও ঝিনাইদহের উন্নয়নের পথিকৃৎ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন বশির উদ্দিন আহমেদ মাজমাদার। তিনি ছিলেন এ জেলার প্রথম ব্যক্তি যিনি প্রাদেশিক মন্ত্রীত্ব লাভ করেন এবং ঝিনাইদহের অবকাঠামো ও শিক্ষার উন্নয়নে রাখেন অগ্রণী ভূমিকা।


ঝিনাইদহের প্রথম মন্ত্রী:

১৯৬২ সালে কনভেনশন মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীত্ব লাভ করেন বশির উদ্দিন মাজমাদার। এটি ছিল ঝিনাইদহের ইতিহাসে প্রথম কোনো নাগরিকের মন্ত্রী হওয়ার ঘটনা। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় তিনি পূর্ত, সেচ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।


উন্নয়নের স্থপতি:

তার হাত ধরেই ঝিনাইদহে শুরু হয় উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের যাত্রা। তাঁর উদ্যোগে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, কালীগঞ্জ সুগার মিল, যশোর শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা মিরপুরে বশির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝিনাইদহ–কুষ্টিয়া সড়ক, ঝিনাইদহ শহরের বিদ্যুতায়ন, ঝিনাইদহ কে.সি. কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ স্থাপন, এবং কলেজটিকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীতকরণ সম্ভব হয়।


এছাড়া তাঁর মন্ত্রণালয়ের সময়েই পূর্ব পাকিস্তানের সংসদ ভবন ও এমপি হোস্টেল নির্মাণ, ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনর্র্নিমাণ, যশোর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ঝিনাইদহ মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়, আর.ডি. হল (তৎকালীন বি.ডি. হল), নবগঙ্গা নদীর সেতু নির্মাণ এবং হামদহ মোড় থেকে আরাপপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ সম্পন্ন হয়।


সমাজসেবায় নিবেদিত জীবন:

বশির উদ্দিন মাজমাদার শুধু রাজনীতিবিদই নন, ছিলেন একজন নিবেদিত সমাজসেবক। তিনি ১৯৪২ ও ১৯৬০ সালে অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পান। তার সময় ঝিনাইদহে আরেকজন অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন নিখিলেশ্বর চন্দ্র বসু, যিনি সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের বাসিন্দা।


ঝিনাইদহ শহরের মাওলানা ভাসানী সড়কে তাঁর নিজস্ব দ্বি-তলা বাড়িটি আজও তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।


জীবনী ও শিক্ষাজীবন:

১৮৯৮ সালের আগস্ট মাসে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের হুদামাইলমারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বশির উদ্দিন আহমেদ মাজমাদার। তাঁর পিতা ছিলেন নজির উদ্দিন আহমেদ মাজমাদার এবং মাতা সৈয়দা করিমন নেছা।


তিনি ১৯৩৪ সালে ঝিনাইদহ মডেল হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আই.এ. এবং অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।


১৯৪৫ সালে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে ইনকাম ট্যাক্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে ১৯৪১ সালে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগদান করেন এবং পাকিস্তান আন্দোলনে অংশ নেন।


রাজনৈতিক ভূমিকা:

রাজনীতিতে তিনি ছিলেন ভারতীয় মুসলিম লীগের সহকারী সম্পাদক। তাঁর প্রখর বক্তৃতা ও বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য মানুষকে আকৃষ্ট করত। বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষাতেই তিনি দক্ষ বক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিজয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়।


১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বশির উদ্দিন মাজমাদার। তাঁর অবদান আজও ঝিনাইদহবাসীর স্মৃতিতে অম্লান।


Post Top Ad

Responsive Ads Here