শ্রীমঙ্গল(মৌলভীবাজার)প্রতিনিধি:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে চা স্টলগুলোতে নির্বাচনি আমেজ জমে উঠেছে চা বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এখানকার মানুষের সকালে ঘুম ভাঙলেই যেন এক কাপ চা না খেলে তাদের সারাদিন চলেই না। আর সকাল হলেই উপলব্ধি করা যায় গ্রামীণ মানুষের ছোট ছোট চা স্টলে ভিড় জমানো। তবে কম বেশি সকল চা স্টলগুলোতে রয়েছে ছোট বড় অনেক রকমের টেলিভিশন। তারা আবার চা স্টলে বসে পুরো সাউন্ড দিয়ে বাংলা মুভি, নাটকসহ আরও কত কিছু দেখতে দেখা যায়। এবং বসে বসে বিভিন্ন ধরনের গল্পগুজবও করেন।
তবে সমনে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন। আর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চা স্টলগুলোতে খেটে খাওয়া মানুষের ভিড় লক্ষণীয়। নির্বাচন উপলক্ষে কী হচ্ছে দেশে, কে হচ্ছে দেশের এমপি-মন্ত্রী। তা নিয়ে মাতামাতিতে ব্যস্ত তারা। এক কথায় এরকম চা স্টলগুলোতে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তবে এখন আগের মতো চা স্টলে আর মুভি আথবা সিরিয়াল দেখা হয় না। এরকম চা স্টলের টিভির পর্দায় ভাসছে, নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশনের অনেকরকম নির্বাচনী অনুষ্ঠান অথবা টকশোর মতো অনুষ্ঠান।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্রীমঙ্গলে হাট-বাজার, দোকান-পাট, চা স্টলগুলোতে কী রকম নির্বাচনী আমেজ, আর খেটে খাওয়া মানুষই বা কী চাচ্ছে সংশিষ্ট প্রার্থীদের কাছে। তা জানতে প্রতিবেদক বিভিন্ন চা স্টল ঘুরে খেটেখাওয়া মানুষের আলাপ আলোচনা, অনেকের সঙ্গে সাক্ষাতে তাদের সবার একটাই দাবি দেশে যেন কোনো ধরনের হানাহানি ছাড়া শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠ নিরেপক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
শাহাজি বাজারের এক চা স্টলে কিছু সময় বসলে শোনা যায় আগামী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা, কিছু সময় কথাবার্তা শুনে প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের উত্তরে একজন বৃদ্ধ জানান, বাবা আগে আমরা ভোট দিয়েছি এরকম কোন হানাহানি মারামারি ছিল না। এখন যেন নির্বাচন আসলেই হানাহানি মারামারি হয়। এরকম হইলে আমি ভোট দিতে যামুনা আর যদি কোন ধরনের ঝামেলা না হয় ভোট দিতে যাইমু।
শ্রীমঙ্গলে আশীদ্রোন “কলঘর” চা স্টলের অজুদ মিয়া নির্বাচন নিয়ে বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন তাই মানুষের উপস্থিত বেশী আর আমার চা বেচা বিক্রি অনেক বেশী হচ্ছে। তিনি আরোও বলেন, আমি মনে করি এবারের নির্বাচনে কোনো ধরনের হানাহানি মারামারি হবে না। নির্বাচন হবে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ।
চা স্টলে কয়েকজন ভোটার বলেন, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠ নিরপক্ষ হবে কোন ধরনের হানাহানি হবে না। আবাব যেন কেউ কেউ মুখ খুুলছে না।
কয়েকজন নীবন ভোটার বলেন, যখন ছোট ছিলাম তখন বুঝতাম নির্বাচন আসলে কত যে আনন্দের, ঈদে যে রকম খুশি,আনন্দ হয় সে রকম করতাম। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক রকমের দোকান বসত। তখনতো আর আমরা ভোট দিতে পারতাম না। আমরা তরুণরা এরকম কোন নির্বাচন চাই না, যে নির্বাচনে নেই কোনো আনন্দ রয়েছে শুধু বেদনা।

