মহুয়া জান্নাত মনি,রাঙামাটি প্রতিনিধি:এবার নির্বাচনের প্রচারণায় মুখোমুখি রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ ও বিএনপি। ঘটেছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। এসময় আহত হয় উভয় পক্ষে ২৪জন। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের ভেদভেদি মুসলি, পাড়াই এঘটনা ঘটে। দেখা দেই টান-টান উত্তেজনা। তবে পুলিশ দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।এ ঘটনার পরে তাৎক্ষণি সংবাদ সম্মেলন করে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতারা।
বিএনপির প্রার্থী মনি স্বপন দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি শহরের ভেদভেদী মুসলীম পাড়ায় গণসংযোগ করতে যায়। একই সময় আওয়ামীলীগের প্রার্থী দীপংকর তারুকদারের পক্ষে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগমও দলবল নিয়ে ওই এলাকায় প্রচারণায় আসে। এসময় বিনা উচকানিতে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর ই্ট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এবং লাটি চার্জ করে। এসময় বিএনপির প্রায় ২০জন নেতাকর্মী মারাত্মক আহত হয়। আহতরা হলেন- মো. মাহবুবুল বাসেত অপু, মো. মহসিন মিয়া, রবি বড়–য়া, মো. বাবলু, মো.নজরুল হুদা, মো. আরজু, সাধন,রোকমান হোসেন, মনোয়ারা, শ্রাবণ, রবিন, ফারুক আহমেদ সাব্বির, মো. ইলিয়াস, হাসান চৌদূরী সুমন, মনিক, মোরশেদ, ,বাবু, আলী হোসেন, ইমন, তারেক।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা দীপেন দেওয়ান বলেন, এসময় তিনি সহ প্রার্থী মনিস্বপন দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম, সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টোসহ ৮থেকে ১০জন নেতা আওয়ামীলীগের বিক্ষুব্ধ কর্মীদের তোপের মুখে পরে অবরোদ্ধ হয়ে পরে। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। এ বিষয়ে আমরা একটা অভিযোগ দায়ের করবো রাঙামাটি কোতয়ালী থানায়।
অন্যদিকে একই ঘটনার জন্য সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করে মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী ও সংসদ সদস্য ফিরোজ বেগম চিনা বলেন, ভেদভেদী এলাকায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের গণসংযোগে যায়। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপর। তাদের লাটি, ইট, পাটকেলের আগাতে আমাদের চার জন মারাত্মক আহত হয়েছে। আহতরা হলেন- মনির, সোহেল, জসিম ও মাসুদ। নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন ঘটনা সত্যি দুঃখজনক। আমরা তখনিন বুঝতে পেরেছি বিএনপির বিনা কারণে নাশকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছে। এ হামলাটা পরিকল্পিত ছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে পরিস্থিতি উতপ্ত করার অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় রাঙামাটি কতোয়ালী থানায় দলের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।
এব্যাপারে রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুরিম মোতায়ন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গ, এ আগে সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তখনোও উপজেলা আওয়ামীলীগের ৫জন ও বিএনপির ১৭ নেতাকর্মী আহত হয়। পর পর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার পর রাঙামাটি চাপা উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।


