.jpg)
সালথায় দুই মোড়লের দ্বন্দ্বে তছনছ জনপদ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রাম্য মোড়লের বিরোধে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। হামলা-পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। সাম্প্রতিক ঘটনায় অন্তত ২০-২৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বর ও বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। একসময় তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এর জেরে গত কয়েক মাসে অন্তত ১০টির বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
এদিকে, সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) সকালে উপজেলার মিরের গট্টি এলাকায় ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থকরা নুরু মাতুব্বরের ছেলে রাজিব মাতুব্বরকে কুপিয়ে আহত করে। এর প্রতিক্রিয়ায় নুরু মাতুব্বরের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০-২৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
এর আগে রবিবার (৩ মে) দুপুরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থক আনোয়ার শেখকে মারধর করা হলে পাল্টা জাহিদের সমর্থক রেজাউলকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দুই মোড়লের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি, গ্রাম্য প্রভাব বিস্তার ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।
তারা আরও বলেন, একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটলেও অনেক সময় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অভিযোগের বিষয়ে নুরু মাতুব্বর বলেন, প্রতিপক্ষের হামলায় তার সমর্থকদের অনেকে আহত হয়েছেন এবং পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি করছে। অন্যদিকে জাহিদ মাতুব্বর দাবি করেন, তিনি বর্তমানে অসুস্থ এবং কোনো ধরনের বিরোধ বা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে।”
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন জানান, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন কাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
