ফরিদপুরে শিক্ষিকা-ব্যাংক কর্মকর্তা খুন- প্রাথমিক কারন পরকীয়া - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, মে ০৭, ২০১৮

ফরিদপুরে শিক্ষিকা-ব্যাংক কর্মকর্তা খুন- প্রাথমিক কারন পরকীয়া

কামরুজ্জামান সোহেল ,ফরিদপুর থেকে:
ফরিদপুর শহরের দক্ষিন ঝিলটুলী এলাকার তিনতলা বিশিষ্ট ফ্লাট বাড়ীর নিচতলার একটি রুম থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হোসেন (৩৮) ও কলেজ শিক্ষিকা সাজিয়া বেগম (৩৪) এর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দক্ষিন ঝিলটুলীর ৩২/এ নাম্বার বাড়ী থেকে এ লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। বাড়ীর মালিকের নাম নুরুল ইসলাম। পুলিশের ধারনা পরকীয়ার জের ধরে এ জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের লাশ এবং মেঝেতে পড়ে থাকা কলেজ শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। দুটি লাশই পাওয়া যায় ফারুক হোসেনের রুমে। পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। রুম থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত কলেজ শিক্ষিকার ফুপু বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষিকার স্বামী শেখ শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ, স্থানীয় এলাকাবাসী, বাড়ীর মালিক সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছর আগে নুরুল ইসলামের ফ্লাট বাড়ীর নিচতলা ভাড়া নেন ফরিদপুরের সরকারী সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা সাজিয়া বেগম। বেশীর ভাগ সময় তিনি তার ছোট ছেলে তাসিন (৪) কে নিয়ে বসবাস করতেন। সাজিয়ার স্বামী শেখ শহিদুল ইসলাম ব্যবসার সূত্র ধরে বড় ছেলে রিশাদ (১১) কে নিয়ে ঢাকার সূত্রাপুরে থাকতেন। ফরিদপুর সোনালী ব্যাংকে চাকুরী করছেন এমন পরিচয় দিয়ে ফারুক হোসেন নিচতলা ফ্লাটের একটি রুম ভাড়া নেন ১ মাস ১০ দিন আগে। পরিবার নিয়ে থাকবেন বলে বাড়ী ভাড়া নেন ফারুক। কিন্তু রুমটিতে সে একাই থাকতো। কিন্তু ফারুক হোসেন চাকুরী করতেন সোনালী ব্যাংক ঢাকার মতিঝিল প্রধান কার্যালয়ের লিগ্যাল মেটারস ডিভিশনে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসাবে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে সে বাসা ভাড়া নেন বলে জানাগেছে। বাড়ীর মালিকের ছেলে মাহামুদুল হাসান ডেবিট জানান, রাত ১১টার দিকে একটি গানের অনুষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পর নিচতলার ফারুক হোসেনের রুমের দরজা খোলা দেখতে পান। এসময় তিনি রুমের ভেতর উকি দিয়ে দেখতে পান ফারুকের লাশ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে রয়েছে। তাৎক্ষনিক তিনি কোতয়ালী থানা পুলিশকে অবহিত করেন। কোতয়ালী থানা পুলিশ রুমে গিয়ে কলেজ শিক্ষিকা সাজিয়া বেগমের এবং ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের লাশ উদ্ধার করে। সাজিয়া বেগমের মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চিহৃ রয়েছে। ফারুক হোসেনের গায়েও ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত সাজিয়া বেগমের স্বামী শেখ শহিদুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ীক কারনে তিনি ঢাকায় থাকেন। মাঝে মধ্যে ফরিদপুরে আসেন। গত বুধবার তিনি ফরিদপুরে এসেছেন। রবিবার সাজিয়া কলেজে যাবার পর বেলা তিনটার দিকে তার সাথে সর্বশেষ কথা হয়েছে। তখন সাজিয়া তাকে বলেছিল, তার (সাজিয়া) বাসায় ফিরতে দেরী হবে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসায় না ফিরলে সে মোবাইলে ফোন করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে কলেজে খোঁজ নিয়েও সাজিয়ার কোন সন্ধান পাননি। পরে এ বিষয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। রাতে যখন পুলিশ ফারুক ও সাজিয়ার লাশ উদ্ধার করে তখন তিনি বাসায় ছিলেন। ফারুকের রুম থেকে কোন ধস্তাধস্তি কিংবা কোন ধরনের শব্দ শুনতে পাননি বলে জানান তিনি।
নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের ভাই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসআই সোহরাব হোসেন জানান, তারা দুই ভাই ও এক বোন। সবার ছোট ফারুক হোসেন। তাদের গ্রামের বাড়ী যশোর জেলার শার্শা থানার উত্তর বুরুজ বাজার গ্রামে। ফারুক তার কাছেই থাকতেন। ফারুক হোসেন ফরিদপুরে কি কারনে এসেছেন কিংবা বাসা ভাড়া করে মাঝে মধ্যেই থাকতেন তা তাদের জানা নেই। তিনি আরো জানান, তার ভাই ফারুক হোসেন অবিবাহিত।
যে বাড়ীতে জোড়া খুন হয় সেই ফ্লাটের অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, ফারুক হোসেন বাসা ভাড়া নিলেও তাদের সাথে কখনই কারোর কথা হয়নি। মাঝে মধ্যে ফারুক হোসেনের রুমটি খোলা থাকলেও তিনি বেশীর ভাগ সময় রুমের মধ্যেই থাকতেন। স্থানীয়দের ধারনা, সাজিয়া বেগম ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন। ফলে ফারুক হোসেন ঢাকায় চাকুরী করলেও সে ফরিদপুরে সাজিয়া বেগমের পাশের রুমটি ভাড়া নিয়েছেন।
আলোচিত এ জোড়া খুনের কয়েকটি বিষয় নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ, পিবিআই ও র‌্যাব। প্রশাসনের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে নিহত সাজিয়ার স্বামী শেখ শহিদুল ইসলাম। তাদের ধারনা, পরকীয়ার বিষয়টি সাজিয়ার স্বামী জেনে যাবার পর পরিকল্পিতভাবে দুইজনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। যে রুমটিতে দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয় সেই রুমের মূল দরজা খোলা ছিল। তাছাড়া ফারুক হোসেন যদি নিজে সাজিয়াকে খুন করে নিজে আত্মহত্যা করেন তাহলে তার গায়ে আঘাত করলো কে। সে যদি নিজেই আত্মহত্যা করে তাহলে সে কিভাবে ঝুললো ফ্যানের সাথে। কেননা, সেখানে কোন চেয়ার, টেবিল ছিলনা। তাহলে সে ফাঁস দিতে উঠলো কিভাবে। তাছাড়া বাইরে থেকে কেউ এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বাড়ীর মালিকের ছেলের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ জানান, সাজিয়া বেশ হাসিখুশি থাকতেন সব সময়। রবিবার দুপুরের পর কলেজ থেকে বের হবার পর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে তার স্বামী আমাদের জানান। আমি বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করতে বলি। এ ধরনের ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। কলেজ শিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সোমবারের সকল পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম নাসিম জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে পরকীয়ার কারনে এ হত্যাকান্ড দুটি সংগঠিত হয়েছে। ফারুক হোসেন ঢাকায় চাকুরী ও বসবাস করলেও কি কারনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাসা ভাড়া নেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেশ কিছু আলামত দেখে মনে করা হচ্ছে দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। বাকিটা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে। তিনি দাবী করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই জোড়া খুনের রহস্য উম্মোচিত হবে।
সুত্র: দৈনিক ফরিদপুর কন্ঠ

Post Top Ad

Responsive Ads Here