
ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছেন রোহিঙ্গারা, বাড়ছে উদ্বেগ
মো. নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম:
মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এবং ভাসানচরে স্থানান্তরের আশঙ্কা, পাশাপাশি উন্নত জীবন-জীবিকার খোঁজ—এসব কারণে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অনেক রোহিঙ্গা গোপনে ক্যাম্প ত্যাগ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকে পালানোর সময় ধরা পড়ায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। তবে রোহিঙ্গাদের চলাফেরা, ভাষা ও পোশাক স্থানীয়দের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিনই ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী কয়েকজন রোহিঙ্গা পায়ে হেঁটে সীমান্ত অতিক্রম করে দালালের সহায়তায় বিভিন্ন ক্যাম্পে স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকিরচর এলাকায় স্থানীয়দের হাতে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা ১৪ জন রোহিঙ্গা আটক হয়। পরে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভেলপমেন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জমির উদ্দিন বলেন, “নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হতে পারে কিংবা ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা থেকেই অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।”
এদিকে, সরকারের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বেশ কিছু রোহিঙ্গার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও নিখোঁজের নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই, তবে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান অনিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি) সূত্রে জানা যায়, বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ১৮ হাজার। তবে বর্তমানে শিবিরগুলোতে প্রায় ৯ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।
ক্যাম্প-২৪ থেকে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা মো. জাবেদ জানান, “ক্যাম্পে খাদ্যের সংকট রয়েছে। তাই কাজের সন্ধানে শহরের দিকে যাচ্ছি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্যসংকট, কর্মসংস্থানের অভাব, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ক্যাম্প ত্যাগের প্রবণতা বাড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
