মহুয়া জান্নাত মনি,রাঙামাটি প্রতিনিধি:বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শহরের হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, এরই একটি ‘শিল্পের শহর’ কর্মসূচি। কর্মসূচিটির ভাবনা ও পরিকল্পনায় রয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-র মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
বুধবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ আব্দুল আলী মঞ্চে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ‘শিল্পের শহর রাঙামাটি’ নামে অনুষ্ঠানটি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন করেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাঙাামাটি পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ মো: তাছাদ্দিক হোসেন কবীর, জেলা রোভার স্কাউটস এর সম্পাদক নুরুল আবছার। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক বুলবুল। এ সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার অনুসিনথিয়া চাকমা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা রূপনা চাকমা’সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, এ জেলায় রয়েছে বিভিন্ন ভাষাভাষি নৃ-গোষ্ঠীদের বসবাস। রয়েছে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য। তিনি বলেন, তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড চর্চা করতে সরকার শিল্পকলা একাডেমি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি বলেন, এ জেলা একটি পর্যটনখ্যাত জেলা। এখানে আগত পর্যটকদের বিনোদনের খোরাক হিসেবে শিল্পীরা যদি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাহলে একদিকে যেমন তাদের সাংস্কৃতিক চর্চা হবে অন্যদিকে নিজেদের ঐতিহ্যকে উপস্থাপন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, নৃ-গোষ্ঠীদের রয়েছে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের পোশাক, বাঁশ ও বেতের জিনিসপত্র এবং রয়েছে নিজস্ব ধরনের পিঠা পুলি। পর্যটকদের কাছে এসব বিক্রী করেও নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণে শিল্পী কলা-কৌশলীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
পরে অনুষ্ঠানে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

