মাদক ব্যবসা আড়াল করতেই সংবাদ সম্মেলন করে অভিনয় - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, আগস্ট ০৫, ২০২৩

মাদক ব্যবসা আড়াল করতেই সংবাদ সম্মেলন করে অভিনয়

 


ফরিদপুর প্রতিনিধি : 

মাদক ব্যবসার অভিযোগ আড়াল করতে এবং আগে থেকেই একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হওয়ায় ফরিদপুরের ডিবি পুলিশের ওসি মো. রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান। শনিবার ফরিদপুরের সাংবাদিকদের নিকট তিনি এতথ্য জানান।


এর আগে গত শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মধুখালী উপজেলার মধুপুরের মৃত মজিদ খানের সন্তান সামাদ খান (৩৬) ডিবি ওসির বিরুদ্ধে তার রেন্ট-এ-কারের মাইক্রোবাস আটক করে চালককে এসপি অফিসে নিয়ে যেয়ে ৭ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ করেন।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ের নিকট থেকে ডিবি ওসি রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে গত ১৯ জুলাই সামাদ খানের মালিকানাধীন একটি মাইক্রোবাস (নং-ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩-১০২০) থেকে ৩ হাজার পাঁচশো ৮২ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৩ মামলার আসামী আলী আকবর ফকির (৫০), কক্সবাজারের উখিয়ার জসিম উদ্দিন (৩৮), মো. ফারুক (৩২), খোকন তারেক (২০), নগরকান্দার ইমরুল কাজী ও চালক সুশান্ত (৩৫) সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের নামেই একাধিক মাদক মামলা আছে। এদের তিনজনের বাড়ি কক্সবাজারে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০ (খ)/৩৮/৪০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-৬৪, তাং-২০ জুলাই ২০২৩। তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ থেকে মাদক এনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করে থাকে।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৭ সালে সামাদ খানের বিরুদ্ধে তার শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা হয়। সেসময় মধুখালীতে কর্মরত থাকার সুবাদে ওই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন বর্তমান ওসি ডিবি রাকিবুল। ওই মামলার আসামী হওয়ার পর সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ পত্র প্রদান করেন আদালতে। এরপরেই  সামাদ খান সংখুব্ধ হন ডিবির ওসি রাকিব এর উপর। পূর্বের এই বিরোধ এবং মাদক ব্যবসাকে আড়াল করতেই ডিবির ওসি রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। পুলিশ জানায়, ২০১৭ সালের আগস্টে সামাদ খান র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। তার নিকট থেকে ৩ হাজার ১৫০ পিচ ইয়াবা, ফেনসিডিল, বিদেশী মদ, ২৩ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ৬৯০ পিচ ট্যাবলেট এবং এক জোড়া কালো রংয়ের বুট জুতা, পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত একটি নেভী ব্লু রংয়ের প্যারেড ক্যাপ উদ্ধার হয়। এঘটনায় তার নামে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও প্রতারণা সহ তিনটি মামলা হয় ওই বছরের ২৮ আগস্টে।


জেলা পুলিশ জানায়, সামাদ খান মূলত মাইক্রোবাসের চালক ছিলেন। বিভিন্ন সরকারী প্রয়োজনে মাইক্রোবাসটি রিক্যুজিশন নেয়া হতো। তখন থেকে ড্রাইভার সামাদের পরিচয় পুলিশের সাথে। পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে পুলিশের আড়ালে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করতো সে। ওই সময় সীমান্ত এলাকা থেকে প্রচুর পরিমানে ফেনসিডিল আসতো মধুখালীতে। সামাদ এসব সরবরাহ করতো বিভিন্নস্থানে। এরপর ইয়াবা আসলে সে ইয়াবা ব্যবসার সাথেও সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। তার একটি হারবাল ওষুধের দোকান রয়েছে। ওই ব্যবসার আড়ালে সে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন অবৈধ ঔষধ রাখতো। এভাবে সে ধীরে ধীরে মাদকের গডফাদার হিসেবে প্রচুর অর্থের মালিক হয়ে যায়।


সামাদ খানকে হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল আখ্যায়িত করে জেলা পুলিশ জানায়, প্রচুর অর্থের মালিক হয়ে যাওয়ায় সমাজের সবমহলের সাথে যোগাযোগ মেইনটেইন করে চলে। তার বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করে ও প্রেস ব্রিফিং করে নিজের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করে থাকে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।


প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সামাদ খান অভিযোগ করেন, গত ১৯ জুলাই তার মাইক্রোবাবাসের চালক তাকে না জানিয়ে চারজন যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথে ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির, আলী আকবর নামের এক ব্যক্তিকে গাড়িতে তোলেন। এরপর ফরিদপুর রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে গাড়িটি দাঁড় করে চালক প্রশান্তকে একটি মোটরসাইকেলে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। গাড়িটিও ডিবির লোকেরা চালিয়ে নিয়ে যায়। পরেরদিন ওসি রাকিব তার কাছে সাত লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় একটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় এবং রাতে ওসি রাকিব আমাকে ফোন দিয়ে গালিগালাজ ও গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন। চালককে গ্রেফতার করলেও তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে।


এদিকে এ বিষয়ে ওসি ডিবি রাকিবুল ইসলাম জানান, বিষয়টির সাথে কোনোভাবেই আমার সম্পৃক্ততা নেই। ২০১৭ সালে ওই ব্যক্তির একটি মামলায় আমি তদন্ত কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণেই সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্ব শত্রুতা হিসেবে এখানে জড়ানো হয়েছে আমাকে। তিনি আরো বলেন এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ কোন কিছুই লুকানোর কোন সুযোগ কোন ব্যক্তির নেই। অপরাধী তার অপরাধ লুকানোর জন্যই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি জানান।‌

Post Top Ad

Responsive Ads Here