![]() |
| বান্দার ডাকে যেভাবে সাড়া দেন আল্লাহ |
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী:
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, “(তিনিই) আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, জীবনদাতা ও চিরস্থায়ী। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাকে আচ্ছন্ন করতে পারে না। আকাশসমূহে যা আছে ও পৃথিবীতে যা আছে সবই তারই।” — সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৫
ইসলাম ঘোষণা করে যে, এই পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা হলেন এক জীবন্ত প্রভূ প্রতিপালক। তিনি নিজ বান্দাদের জন্য আজও তেমনই প্রকাশিত হন, যেমন পূর্ববর্তী যুগসমূহে প্রকাশিত হতেন। সময় ও যুগের পরিবর্তন হলেও তার গুণাবলীর কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি আজও শোনেন, আজও সাড়া দেন, যেমনটি পূর্বে করতেন।
আল্লাহতায়ালার জীবন্ত, চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী সত্ত্বাই মানুষকে তার ওপর ঈমান আনতে, সম্পর্ক স্থাপন করতে ও ভালোবাসা পোষণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি বলেন— “আর তুমি সেই চিরঞ্জীব সত্তার ওপর ভরসা কর, যার মৃত্যু নেই।” — সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫৮
আল্লাহপাক আরও ইরশাদ করেন, “এ পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই নশ্বর, কিন্তু প্রতাপ ও মর্যাদার অধিকারী তোমার প্রভুর সত্তা অবিনশ্বর।” — সুরা আর-রহমান, আয়াত: ২৬-২৭
অর্থাৎ, জগতের সব সত্তাই পরিবর্তনশীল ও নশ্বর, কেবল আল্লাহই চিরস্থায়ী। তাঁর ওপর ঈমান ও বিশ্বাসই ধর্মের মূলভিত্তি ও আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু। ইসলাম আল্লাহতায়ালার সত্তাকে এক জীবন্ত বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে— যিনি নিজ বান্দাদের দোয়া শোনেন এবং তার জবাব দেন।
আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” — সুরা আল-মুমিন, আয়াত: ৬০
নবী করিম (সা.)–এর জীবন্ত উদাহরণ:
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিভিন্ন বাদশাহের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র পাঠান। যখন ইরানের বাদশাহ কিসরার কাছে তার পত্র পৌঁছে, সে ক্ষিপ্ত হয়ে তা টুকরো করে ফেলে দেয়। এরপর সে ইয়ামেনের গভর্নরকে নির্দেশ দেয়, “এই আরবী (অর্থাৎ মহানবীকে) বন্দী করে আমার সামনে হাজির কর।”
ইয়ামেনের গভর্নর মহানবীকে (সা.) বন্দী করার জন্য দু’জন দূত পাঠায়। তারা মদীনায় এসে নবী করিম (সা.)-কে অনুরোধ করে, “আমাদের সঙ্গে চলুন, না হলে কিসরা আপনার দেশ ধ্বংস করবে।” নবী করিম (সা.) বলেন, “তোমরা আজ রাতে থাকো, আমি কাল তোমাদের উত্তর দেব।”
পরদিন নবী করিম (সা.) বলেন, “তোমাদের প্রভুর (গভর্নরের) কাছে গিয়ে বলো, আমার প্রভু আজ রাতে তোমার প্রভুকে (কিসরাকে) হত্যা করেছেন।”
গভর্নর এই সংবাদ শুনে বলেন, “যদি এই কথা সত্যি হয়, তবে তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহর নবী।”
কিছুদিন পর সত্যিই কিসরার পুত্র তার পিতাকে হত্যা করেছে বলে খবর আসে। এভাবেই জীবন্ত আল্লাহর সঙ্গে নবী করিম (সা.)–এর গভীর সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়— আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকে সর্বাবস্থায় নিরাপত্তায় রেখেছিলেন।
আল্লাহর সাড়া ও বান্দার ডাক:
আল্লাহতায়ালাকে যারা ভালোবাসেন এবং যাদের হৃদয় পবিত্র, তারা যখন তাঁকে স্মরণ করেন ও ডাকেন, তখন আল্লাহ তাঁদের ডাক শুনেন এবং সাহায্যের জন্য সাড়া দেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন বল, আমি নিকটে আছি। আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার উত্তর দিই যখন সে আমাকে ডাকে। তাই তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার ওপর ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথে থাকতে পারে।” — সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬
আসুন, আমরা জীবন্ত ও চিরঞ্জীব আল্লাহর সঙ্গে প্রেমময় সম্পর্ক গড়ে তুলি। তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলি, অপকর্ম থেকে দূরে থাকি এবং সর্বদা আল্লাহর স্মরণে সময় অতিবাহিত করি। আল্লাহুম্মা আমীন।
✍️ লেখক: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট
সাবেক ইমাম ও খতীব, কদমতলী মাজার জামে মসজিদ, সিলেট
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট

