
জমাদিউস সানি মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত: শীতের ইবাদতের বিশেষ সুযোগ
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী:
হিজরি সনের ষষ্ঠ মাস জমাদিউস সানি, যা ‘জমাদিউল আউয়াল’–এর পরবর্তী মাস হিসেবে পরিচিত। আরবি ভাষায় ‘জুমাদা’ শব্দের অর্থ হলো স্থির, অবিচল কিংবা জমাটবদ্ধ—যা শীতকালের জমাটবদ্ধ প্রকৃতির প্রতিফলন। এই দুই মাস আরব অঞ্চলে শীতকাল হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাদের নাম রাখা হয় ‘জুমাদাল উলা’ (প্রথম) এবং ‘জুমাদাল উখরা’ বা ‘জুমাদাস সানিয়াহ’ (দ্বিতীয়)।
জমাদিউস সানির আভিধানিক অর্থ ও নামকরণের পেছনের কারণ:
‘জুমাদা’ শব্দটি শীতের কারণে জমাটবদ্ধতাকে নির্দেশ করে। তীব্র শীতে পানি বরফে পরিণত হয়, প্রাণ-প্রকৃতি নিথর হয়ে পড়ে—এ কারণেই মাসটির নামকরণ করা হয়েছে ‘জুমাদা’। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, “জুমাদা হলো শীতকাল, যা বসন্তের নিকটে এবং গ্রীষ্মের আগে।”
এ মাসে নেক আমলের গুরুত্ব:
অন্যান্য মাসের মতো জমাদিউস সানিতেও অধিক নেক আমল করার তাগিদ দিয়েছেন আলেমগণ। নফল নামাজ, নফল রোজা, দান-খয়রাত এবং তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে মাসটি কাটানোর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। বিশেষ করে—
নফল রোজায় ১, ১০, ২৯ ও ৩০ তারিখে রোজা রাখা সুন্নত।
‘আইয়ামে বীজ’ অর্থাৎ চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখাও সুন্নত আমল।
রাতে তাহাজ্জুদ, দিনে ইশরাক ও চাশতসহ ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সঙ্গে নফল নামাজ আদায় করা মুমিনদের উন্নতিতে সহায়ক।
বিশেষভাবে, জমাদিউস সানি হলো রজব মাসের প্রস্তুতির সময়। তাই এই মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বেশি বেশি নফল ইবাদত, দোয়া, দরুদ ও সদকা করা উচিত।
নেক আমল ছাড়া সময় নষ্টের সতর্কতা:
হাদিসে এসেছে, মুমিন জান্নাতে গিয়েও যে সময় নেক আমল ছাড়া নষ্ট করেছেন তার জন্য আফসোস করবেন। (তিরমিজি) এজন্য প্রতিটি সময়কেই ইবাদত ও নেক কাজের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
আল্লাহর নির্দেশমানা:
সুরা কুরাইশে আল্লাহ বলেন—“তারা যেন এই (কাবা) গৃহের প্রভুর ইবাদত করে, যিনি তাদের ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং ভয়-ভীতিতে নিরাপত্তা দিয়েছেন।” (সুরা কুরাইশ: ১-৪)
জমাদিউস সানি মাসটি বিশেষভাবে শীতের পবিত্র উপলক্ষ, যা আল্লাহর ইবাদতের জন্য উত্তম সুযোগ। সঠিকভাবে আমল করলে এই মাসের সৌভাগ্য অর্জন সম্ভব।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী একজন বিশিষ্ট ইসলামী লেখক, চিন্তাবিদ, সাবেক ইমাম ও খতিব কদমতলী মাজার জামে মসজিদ, সিলেট। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
