![]() |
| সালথায় এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০ |
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় এলাকার আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা এলাকায় সালথা-ময়েনদিয়া সড়কে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ওই সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সোনাপুর ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহিদুল হাসান লাবলু ও বিএনপি নেতা এবং সালথা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক জয়নুল আবেদীন সাখাওয়াতের সঙ্গে সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুল হক মোল্যা ও বিএনপি নেতা মো. সরোয়ার হোসেনের বিরোধ চলে আসছিল।
স্থানীয়রা জানান, মো. সরোয়ার হোসেন ও অ্যাডভোকেট জাহিদুল হাসান লাবলু দুজনই সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। কয়েক মাস ধরে তারা নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
স্থানীয়দের দাবি, চলমান বিরোধের মধ্যে বিএনপি নেতা সরোয়ার হোসেনের সমর্থক যোগারদিয়া গ্রামের টুকু মাতুব্বরকে নিজেদের দলে ভেড়ানোর জন্য লাবলুর সমর্থকেরা চাপ দিয়ে আসছিলেন। সোমবার বিকেলে টুকু সোনাপুর বাজারে গেলে লাবলুর সমর্থকেরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কয়েকটি গ্রামের দুই পক্ষের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফুকরা এলাকায় সালথা-ময়েনদিয়া সড়কে জড়ো হন। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণে সালথা-ময়েনদিয়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
সোনাপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, তিনি এলাকায় কোনো পক্ষ পরিচালনা করেন না। সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুল হক মোল্যা দল পরিচালনা করেন এবং তিনি তার দলের একজন সমর্থক।
তিনি বলেন, যতটুকু শুনেছেন, তাদের দলের লোকজনকে জোরপূর্বক লাবলু ও জয়নুল নিজেদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করায় এ ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তবে বিএনপি নেতা ও সালথা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক জয়নুল আবেদীন সাখাওয়াত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে দলে ভেড়ানোর জন্য কোনো ধরনের চাপ দেননি।
তার দাবি, ফুকরা গ্রামের ফজলু ও টুকু মাতুব্বর তার চাচাতো ভাই হৃদয়ের শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন। পরে বাজারে থাকা লোকজন তাদের ধাওয়া দেন। এরপর তারা ঢাল-সড়কি নিয়ে এসে তাদের লোকজনের ওপর হামলা করলে তার পক্ষের লোকজন তা প্রতিহত করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জাহিদুল হাসান লাবলু ও সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বড় ধরনের সহিংসতা শুরুর আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

