মোঃ সালাহউদ্দিন আহম্মেদ ,জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী:
কিস্তি, কিস্তি, কিস্তি কবিরাজের নিজের বাড়ী (৭) সাত তলা। বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছেন.? আজই চলে আসুন আমাদের এই ঠিকানায় এই প্রথম আমরাই দিচ্ছি কিস্তি সুবিদা নারী ও পুরুষের পুরাতন জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা করা হয়। বিফলে মূল্য ফেরত এ ছাড়াও যাদু,টুনা,বান,মনের মানুষের সাথে অমিল,স্বামী -স্ত্রী কে বাধ্য করা, বিদেশ যাত্রা,লটারি, ও ব্যবসা বানিজ্যের উন্নতি করা, সকল প্রকার সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়
।
সারা দেশের ন্যায় নরসিংদী জেলায় প্রকাশ্যে এমন চটকদার লিফলেট,ব্যানার, দেয়াল লিখনে চলছে হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা। নরসিংদী শহর,ভেলানগর বাসষ্ট্যান ,সাহে প্রতাব মোড়,পাচদোনা,শেকের চর(বাবুরহাট),মাধবদী পৌরসভা সহ ঘোড়াশালেই প্রায় শতাধিক হারবাল নামদারী সাইনবোর্ড ঝুলানো দোকান বা কবিরাজ ঘর রয়েছে ।
পলাশ,শিবপুর,রায়পুরা,মনোহরদি,বে লাব উপজেলা গুলোতে ও চলছে তাদের প্রতারনা এদের টার্গেট গ্রাম-গঞ্জের সহজ সরল দিন মজুর অসচেতন মানুষ সোমবার মাধবদী সাপ্তাহিক হাটের দিন সহ জেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে দোকান ভাড়া নিয়ে চলছে এদের প্রতারনা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে বাহারি রকমের সাইনবোর্ড থাকে কেউ বা আবার হাতে ধরিয়ে দেয় ১০০% গ্যারান্টি লেখা কাগজ। এসব হারবাল চিকিৎসার অন্তরালে যৌন উত্তেজক মাদক ব্যবসা চলছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সের উপর নির্ভর করে চলছে।
তবে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ অনেক আগে শেষ হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম থেমে নেই। কোনো রোগী এলে তাকে ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা । কোনো হেকিম,কবিরাজ, বা রেজিস্টার্ড চিকিৎসক না থাকলেও রোগীর কাছ থেকে পরামর্শ ফি বাবদ ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
এরপর রোগের লক্ষণ অনুযায়ী ওষুধ প্রদান বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। যৌন রোগী গেলে যৌন শক্তিবর্ধক হাই পাওয়ার বড়ি ৫৫০ টাকা, লং টাইম হালুয়া ৩০০ টাকা, হাব্বে কবাদ ২০০ টাকা ও ম্যাসেজ ওয়েল মালিশ বাবদ ২০০ টাকা থেকে ১০০০/ ২৫০০/৪০০০ হাজর টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এছাড়া মেয়েদের রোগ সংক্রান্ত চিকিৎসার গ্যারান্টি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।
চিকন বা মোটাতাজাকরণ ও যৌনরোগ নিমিষে সারিয়ে তোলার নামে যেসব ওষুধ দেয়া হচ্ছে, তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। চিকন দেহ মোটাকরণের নামে 'স্টেরয়েড' খাওয়ানোয় কিডনি, লিভার বিকল ও ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তবুও প্রকাশ্যে দাপটের সাথে ডিস লাইনে টঙ্গী, কোনাবাড়ি,কবিরাজের সাত তলা নিজের বাড়িতে কিস্তিতে ঔষধ দেওয়া হয় বলে বিঙ্গাপন দেন।

