টাঙ্গাইলে গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা আম ।। - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, মে ০৫, ২০১৮

টাঙ্গাইলে গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা আম ।।

জাহাঙ্গীর আলম, টাঙ্গাইল
“ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাঁকা জামের শাখায় উঠি রঙ্গিন করি মুখ”- পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের ‘মামার বাড়ি’ কবিতার সঠিক সময় এখন। এখন গাছে গাছে ঝুলছে ছোট কাঁচা আম। আর কাঁচা আম মানেই রসনা প্রিয় বাঙালির জিভে জল। তাই ছেলে-বুড়ো সবাই এখন মেতেছে এই আমের স্বাদে। বৈশাখের বাতাসে দোল খাওয়া আমগুলো দেখে এর লোভে গাছের নিচে জড়ো হচ্ছে শিশু-কিশোরের দল। গাছে উঠে পেড়ে আনছে আম। লবণের সঙ্গে তাদের কাঁচা আম খাওয়া আর হৈ-হুল্লোড় দেখে বড়দের অনেকের চোখে ভেসে ওঠে শৈশবের অমলিন স্মৃতি।

মনে উঁকি দিয়ে যায় গ্রামের অলস বৃষ্টিময় দুপুরে দলবেঁধে আম চুরি করতে যাওয়া, মায়ের বকুনি খাওয়া আর আমগাছের মালিকের তাড়া খেয়ে দৌড়ে পালানোর আনন্দ। দুরন্ত কিশোরদের কাঁচা আম পাড়া দেখছিলেন আব্দুল মজিদ। তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, বৈশাখে স্কুল ছুটি থাকতো। আমরা দলবেঁধে এ সময় আম চুরির বিভিন্ন পরিকল্পনা করতাম। আমাদের পকেটে থাকত লবণ আর ফুটো করা ঝিনুক। সারাদিনই এর-ওর গাছের কাঁচা আম খেয়ে ঘুড়ে বেড়াতাম। এছাড়া কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলেই দলবেঁধে ছুটতাম আম কুড়াতে। কার আগে কে কত বেশি আম কুড়াতে পারে, তা নিয়েই চলত প্রতিযোগিতা। সবাই মিলে ঝড়ে কুড়ানো, আম কাসন্দি মেখে, কাঁচা মরিচ দিয়ে ভর্তা বানিয়ে খেতাম। এগুলো এখনো স্মৃতিপটে অমলিন হয়ে আছে।
অন্যদিকে বৈশাখের এ সময়ে ঘরে ঘরে মায়েরা ব্যস্ত হয়ে যান কাঁচা আমের আচার তৈরিতে। কত রকমের আচার যে তৈরি করা হয় এ আম দিয়ে তার কোনো হিসাব নেই। সারা বছর ধরে চলে এই সময়ে বানানো আচার খাওয়া। এছাড়া গ্রীষ্মের এ সময়ে পথেঘাটে কাঁচা আমের ভর্তা ও আচার বিক্রি করে বেড়ায় ফেরিওয়ালারা। তরুণ-তরুণীরা ছাড়াও সব বয়েসী মানুষ আচার খেতে ভিড় করেন তাদের পাশে।
টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র ক্যাপসুল মার্কেটে গিয়ে দেখা গেল, আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তি কাঁচা আমের পসড়া সাজিয়ে বিক্রী করছে আমের শরবত, আমের ভর্তা, এমনকি আমের বাহারী আচার। সেখানে দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে আমের ভর্তা ও আচার খাচ্ছিলেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ও আমপ্রিয় লোকজন। সেখানে কথা হয় বিশ^বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থী অয়ন, মেহেজাবিন, সেতু, মুক্তা আর ফাহিমের সাথে। তারা জানান, গ্রামে থাকতে প্রচুর কাঁচা আম খাওয়া হতো। এখন পড়াশোনা করতে টাঙ্গাইল শহরে থাকতে হয়। তাই কেনা আমের ভর্তা খেতে হচ্ছে। তবে সামনেই গরমের ছুটি, সে সময় বাড়িতে গিয়ে চুটিয়ে কাঁচা আম খাবো।
আর কয়েকদিন পরই গাছে ঝুলতে থাকা কাঁচা আমগুলো পেকে টসটস করবে। মে মাসের শেষ নাগাদ গোপালভোগ, রানীপছন্দ, লকনা, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, ল²ণভোগ, দুধসর, মোহনভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমে বাজার সয়লাব হবে। এরপর আসবে মৌসুমের মূল আকর্ষণ ফজলি এবং সর্বশেষ বাজারে উঠবে আশ্বিনা আম।

Post Top Ad

Responsive Ads Here