ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ছাতা মাথায় আনন্দ আর আনন্দ কয়েক দিন ধরে আবহাওয়ার মর্জি বোঝা দায়! আষাঢ়ে আকাশে এই ঝলমলে রোদ তো খানিক বাদেই বৃষ্টি। রোদে–বৃষ্টিতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েন রিকশা আর ঠেলাচালকেরা।
ছাতা মাথায় আনন্দ আর আনন্দ কয়েক দিন ধরে আবহাওয়ার মর্জি বোঝা দায়! আষাঢ়ে আকাশে এই ঝলমলে রোদ তো খানিক বাদেই বৃষ্টি। রোদে–বৃষ্টিতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েন রিকশা আর ঠেলাচালকেরা।
ফরিদপুরে তরুছায়া সংগঠনের একদল তরুণ ভাবলেন, এই মানুষদের জন্য কিছু একটা
করা উচিত। শুধু ভেবেই বসে থাকলেন না, নিজেদের পকেটের পয়সায় কেনা ছাতা নিয়ে
পরিয়ে দিলেন রিকশাচালকদের মাথায়। মাথায় কেন? তাঁরা এই ছাতাকে বলছেন ক্যাপ
ছাতা। প্রচলিত ছাতার চেয়ে কিছুটা ছোট, হাতলের বদলে বিশেষ কায়দায় মাথায় আটকে
রাখা যায়। এই তরুণেরা যুক্ত হয়েছেন ‘সেচ্ছাসেবী তরুছায়া ফাউন্ডেশন’ নামের
সংগঠনের মাধ্যমে।
তাদের এই ছাতা বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন ফরিদপুরেরর জেলা
প্রশাসক, ও সংগঠনটির প্রধান অভিভাবক অতুল সরকার, সেসময় তিনি তার হাত
দিয়ে চালকদের মাথায় ছাতা পড়িয়ে শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় অতুল সরকার বলেন
তরুছায়ার এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানাই তাদের সাফল্য কামনা করি, তারা
ইতিমধ্যে আমার নির্দেশে ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করে ব্যাপক সাড়া
পেয়েছে তাদেরকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব আসলাম মোল্লা, এনডিসি
বায়েজিদ ইসলাম, সমাজসেবা অফিসার বিল্পপ সাহা, কিং কারাতে প্রতিষ্ঠানের
প্রশিক্ষক জহিরুল ইসলাম আলী, তরুছায়ার নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার
মানুষ।
হাসিখুশি সবাই ছাতা পেয়ে রিকশাচালকদের মুখে যে হাসি ফুটে ওঠে, তা যেন
তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের আরও উৎসাহিত করল। তাঁরা নিজেদের সঞ্চয় ছাড়াও বিভিন্ন
পরিচিত মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন টাকা।
তরুছায়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি খালিদ মাহমুদ সজীব বলেন আমরা
রিকশাওয়ালা চাচাদের ছাতা দিয়ে তাঁদের মুখে অমায়িক একটা হাসি ফুটে উঠেছে ওই
হাসিটাই যে প্রশান্তি দেয়, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, তাই আমরা ছাতা
বিতরণ অব্যাহত রাখবো।
তরুছায়া সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইনামুল হাসান মাসুম
জানালেন, আমরা শতাধিক রিকশাচালকদের মাঝে ছাতা বিতরণ করবো শহর ও ইউনিয়ন
পর্যায়ে।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের এই সংগঠনের কার্যকরী কমিটির
সদস্য এখন ৩০ জন। স্বেচ্ছাসেবক আছেন ১০০ জনের মতো। ভালো কিছু করার
অনুপ্রেরণায় তাঁরা একটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। তাই নামটিও দিয়েছেন
তরুছায়া, অসহায় মানুষের পাশে ছায়ার মতো সহায় হয়ে দাঁড়ানোই তাঁদের উদ্দেশ্য।

