![]() |
| কর্ণফুলী টানেলের ‘সাত তারকা’ অতিথিশালা যাচ্ছে পর্যটন খাতে |
মো. নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারা প্রান্তে নির্মিত আধুনিক অতিথিশালাটি পর্যটন খাতে ব্যবহারের জন্য লিজ (ইজারা) দিতে যাচ্ছে সেতু বিভাগ। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম টানেল উদ্বোধনের পর দীর্ঘদিন ধরে ‘সার্ভিস এরিয়া’ নামে পরিচিত এই অবকাঠামোটি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। প্রায় ৭২ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই সার্ভিস এরিয়ায় ‘সাত তারকা’ মানের অতিথিশালা থাকলেও তা এখন পর্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি।
সরকার বলছে, পর্যটন খাতে ব্যবহারের জন্য এটি লিজে দেওয়া হলে চট্টগ্রামের পারকি সমুদ্রসৈকতসহ আশপাশের এলাকায় দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, ৩০ বছরের জন্য সার্ভিস এরিয়া ইজারা দেওয়া হবে। আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা দরপত্র জমা দিতে পারবেন। নির্বাচিত ইজারাদারকে ‘যেমন আছে’ ভিত্তিতে সব স্থাপনা হস্তান্তর করা হবে এবং নির্ধারিত শর্তে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
এই সার্ভিস এরিয়ায় রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের ছয় কক্ষবিশিষ্ট একটি আধুনিক বাংলো, ৩০টি রেস্টহাউজ, সম্মেলন কেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট, জিম, রেস্তোরাঁ, সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, হেলিপ্যাড, মসজিদ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ নানা সুবিধা। এছাড়া চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে একটি জাদুঘরও রয়েছে।
প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সার্ভিস এরিয়ায় ১ হাজার ১৮২ টন ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। তবে ব্যবহার না থাকায় এটি দীর্ঘদিন ধরে অপচয়ের প্রতীক হয়ে ছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প বর্তমানে লোকসানে রয়েছে। প্রতিদিন রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা, যেখানে টোল থেকে আয় হচ্ছে মাত্র ১০ লাখ টাকার কিছু বেশি। এ অবস্থায় সার্ভিস এরিয়াটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারকি সমুদ্রসৈকতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এই সার্ভিস এরিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কর্ণফুলী টানেল হয়ে সহজেই এ এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় পর্যটন সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে। তার মতে, “চট্টগ্রাম নগরীর এত কাছাকাছি একটি অতিথিশালা কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।”
সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে ইজারা দেওয়া হবে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব পাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও উন্নতমানের সেবা উপভোগ করতে পারবে।
কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, লোকসান কমিয়ে আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই সার্ভিস এরিয়াটি বেসরকারি খাতে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থাপনায় এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

