![]() |
| পটিয়ায় পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে আদালত কার্যক্রম |
মো. নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ও পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনেই এখনো চলছে আদালতের কার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা শঙ্কায় দিন পার করছেন।
১৮৮২ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এ ভবনে একই বছর চৌকি আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এটি পটিয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ১৯৮৫ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই বিচারকার্য চালাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পটিয়ায় মোট ছয়টি আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়—পটিয়া প্রথম, দ্বিতীয় ও অতিরিক্ত আদালতসহ বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী আদালত। বর্তমানে এসব আদালতে প্রায় ৩০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে ছয়টি আদালতে বিচারকের সংখ্যা মাত্র চারজন, যা বিচারপ্রক্রিয়ায় চাপ বাড়াচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের ছাউনিযুক্ত পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বেড়ার অংশ ভেঙে গেছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভবনের ওপর দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন চলে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ফজলুল করিম পটিয়ায় বহুতল আদালত ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এ লক্ষ্যে ছয়তলা ভবন নির্মাণে প্রায় ২১ কোটি টাকা বরাদ্দও অনুমোদন পায়। তবে অজ্ঞাত কারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফাইল আটকে থাকায় প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।
এর আগে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময়ও ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই বরাদ্দ অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।
পটিয়া যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সমিতির সভাপতি দীপক কুমার শীল বলেন, “বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে মামলার নথিপত্র নষ্ট হয়। এছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিচারক ও আইনজীবীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”
তিনি আরও বলেন, আদালতের প্রায় ১৮০ বছরের ঐতিহ্য রক্ষা ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি আধুনিক বহুতল আদালত ভবন নির্মাণ জরুরি। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

