আবু মুসা নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটােরের বড়াইগ্রামে সড়ক মেরামতের পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বেহাল দশার সৃষ্টি হয় বরাবরই। নাটাের -পাবনা মহাসড়কে গত বছর বর্ষার পর সড়কটির আহম্মেদপুর থেকে রাজাপুর পর্যন্ত প্রায় ২৪ কি.মি সংস্কার করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ বছরের বর্ষায় মহাসড়কটির কার্পেটিং উঠে এখন হাজারাে গর্ত ভরে গেছে। স্বাভাবিক চলাচল হয়ে পড়েছে প্রায় অসম্ভব। বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাজার, বনপাড়া বাইপাস, আহম্মেদপুর এবং গড়মাটিতে সড়কের ভাঙ্গা ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। বিশেষ করে বনপাড়া বাইপাস এবং আহম্মেদপুর বাজার এলাকায় ভারী ট্রাক আটকে পড়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সওজের সকল আঞ্চলিক সড়ক চলাচলের অনুপোযাগী হয়ে পড়ছে অনেক আগেই। সেখানে মাঝে মধ্যে ইট ফেলে রিপিয়্যারিং করা হয় তাতেই দায় শেষ।
এছাড়াও বনপাড়া বাজার ও আহম্মেদপুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক নিরাপত্তার জন্য সম্প্রতি ডিভাইডার নির্মান করায় বেড়েছে বিড়ম্বনা, সড়ক ভেঙ্গেছে বেশী। ডিভাইডারের পাশ দিয়ে শুধুমাত্র একটি বাস-ট্রাক যাওয়ার মত জায়গা খালি রেখে অবশিষ্ট অংশ জুড়ে লােকাল বাস, সিএনজি চালিত অটােরিক্সা, ভ্যান, ও ফুটপাতের বসতি দােকান দখল হয় থাকে। বিশেষ করে বনপাড়া বাজার মহাসড়ক, গােপালপুর রােড দুরপাল্লার ও লােকাল বাসগুলা ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিন সৃষ্টি হয় লম্বা জানজটের। আর সড়কের একটি নির্দিষ্ট অংশ গাড়ী চলাচলের ফলে গর্ত হয়ে গেছে সড়কের বিভিন্ন অংশে। সেসব স্থান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে হাজারাে গর্ত। সড়কের ওই অংশ কােনভাবেই যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল করা সম্ভব হয় না।
বনপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, বনপাড়া বাইপাস ও বাজার অংশে এবং আহম্মেদপুর বাজারের ডিভাইডার অংশে সড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক, সেখানে সংস্থার করা না হলে এ পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে যেকােনো সময়ে। স্কুল শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, বনপাড়া বাজারের সড়কের পাশে পানি জমে থাকে, মাঝ অংশ ভাঙা, ফলে পথচারীদের পায়ে হেটে চলাচল অসম্ভব হয়ে যায়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়ে চরম বিপাকে। প্রায়ই কাদাছিঁটে পােশক নষ্ট হয়ে যায় তাদের। এতে মাঝে-মধ্যে ফিরে যেতে হয় বাড়িতে। কলেজ শিক্ষক জালাল উদ্দিন বলেন, বনপাড়া বাজার ডিভাইডার নির্মাণের ফলে পথচারীদের সড়ক পারাপার নিরাপদ হয়েছে। দুই পাশ দাঁড়িয় থাকা যানবাহনের কারণ দূর্ভােগ বেড়েছে চরম! এছাড়াও নির্দিষ্ট অংশ গাড়ী চলাচল করায় সড়কের ক্ষতি হয়েছে অনেক গুণ ! মহাসড়ক চলাচলকারী বনপাড়া এলাকার হারােয়া গ্রামের ট্রাক চালক বাচ্চু মিয়া বলেন, সড়ক খানা-খদ্য, গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় গাড়ীর স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হয়, অতিরিক্ত সময় ক্ষেপেন হয়, গাড়ী বিকল হয়, অনক সময় গাড়ী দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মাে. আব্দুর রহিম বলেন, সড়ক ও জনপথের বিষয়টিতা আমার আওতায় নয়, তবে অতিবৃষ্টিতে সড়ক পানি জমলে কার্পটি নষ্ট হয়ে যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুভাস কুমার বলেন, সড়ক অতিরিক্ত লােড পড়ায় এবং সড়কের কােনাে কােনাে স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয় ও ভেঙ্গে যায়।
এ বিষয়ে ‘গাংচিল সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ’, বড়াইগ্রাম শাখার সভাপতি লেখক ও কলামিষ্ট আলহাজ্ব এস.এম লুৎফর রহমান বলেন, সড়কের কােনাে কােনাে স্থানে নিচু থাকায়, জমে থাকা পানি নিষ্কানের জন্য প্রয়ােজনীয় ড্রেন না থাকায় এবং সড়কের দুই পার উঁচু করে দােকানপাট নির্মাণ করায় সড়কেই এসে বৃষ্টির পানি জমা হয়। আর তাতেই সড়কের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয় মেরামতের কিছু দিন পরেই। তাছাড়া বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সড়কের এ বেহাল দশা হওয়ার কথা নয়। উপরোক্ত রয়েছে মেরামতি কাজের গুণগত মানের ত্রুটি। তাই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে সড়ক জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়ােজনীয় ড্রেন নির্মান এবং সিডিউল অনুযায়ী ত্রুটিমুক্ত কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়াজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

