সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বাঊষখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম দূর্ণীতি ও সেচ্ছাচারিতাসহ বিদ্যালয় সহকারী নারী গ্রন্থাগারিক অজ্ঞু মজুমদারকে মানসিক নিযার্তনের অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ অক্টোম্বর উপজেলা নিবার্হী অফিসার বরাবর এক লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী গ্রন্থাগারিক। সেখানে তিনি প্রধান শিক্ষকের নিযার্তন থেকে বাঁচার জন্য নিবার্হী অফিসারের সাহায্য কামনা করেন।
লিখিত অভিযোগে ওই নারী গ্রন্থাগারিক অজ্ঞু মজুমদার বলেন, গত ২০১১ সালে আমি অত্র বিদ্যালয়ে চাকুরীতে যোগদান করিয়া অদ্যবধি সুনামের সাথে কর্মরত আছি। হঠাৎ করে এ বছরের গত জুন ও জুলাই মাসের বেতন অর্ধেক (সরকারি অংশ) বিল করে ব্যাংকে জমা দেয়। যাহাতে আমার কোন সাক্ষর নেওয়া হয়নি। আমার সাক্ষর জাল করে তিনি এই বিল জমা দিয়েছেন। কেন আমাকে অর্ধেক বেতন দেওয়া হবে তার কোন কারন ও দর্শাননি তিনি। কোন সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়নি আমাকে। প্রধান শিক্ষক আমার গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এর সরকারি বিল ও করেন নাই। এমনকি ১লা জানুয়ারী থেকে কোন সম্মানি বেতন ভাতা ও দেওয়া হয়নি আমাকে। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাকে মানসিক নিযার্তন করে আসছেন। আমি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকা সত্ত্বে ও আমাকে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করতে দেওয়া হয় না। অফিস ও শ্রেনী কার্যে অংশ গ্রহন করতে দেওয়া হয় না। এমন কি আমার সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারিদের সাথে কথা বা কোন প্রকার মতবিনিময় করতে দেওয়া হয় না। আমার এম.পি.ও কপি,নিয়োগ বোর্ডের কাগজ পত্র, নিয়োগ পরীক্ষা নম্বার ফর্দ এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কাগজ আটকিয়ে রেখেছেন। ওই গ্রন্থগারিক আরও বলেন, এই বছরের প্রথম দিকে আমাকে কোন কারন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্তের ভয় দেখিয়ে ১ লক্ষ টাকা দাবি করে। আমি কিছু না বুঝে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে তাকে ১ লক্ষ টাকা দেই। সেই টাকা কিছু দিন পর আবার আমাকে ফেরৎ দিয়ে দেয়। সদ্য আমার ব্যাংক এ্যাকাউন্ট চেক করে দেখা যায় সহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি কোন চেক ছাড়াই আমার এ্যাকাউন্ট থেকে এক মাসের পুরো বেতন উত্তোলন করেছে। এটা কি করে হলো আমার জানা নেই। তিনি বলেন, আমি অনেক ধর্য্য ধরেছি এখন আমার সংসার চলছে না। আমি স্কুলে মানসিক যন্ত্রনা পাচ্ছি, আমার এই যন্ত্রনা থেকে বাঁচতে উর্ধতন কতৃপক্ষে সাহায্য কামনা করছি।
কয়েকজন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক এক ঘেয়েমী লোক তার যা মনে হয় তাই করেন। অন্য কারো মতামতের ধার ধারে না।তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। শুনেছি তার নাকি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে অনেক উপরে হাত রয়েছে। এই ভয় দেখিয়ে সকলকে আবদ্ধ করে রাখে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ এমদাদ ফকির বলেন, আমি এই স্কুলে নতুন সভাপতি হয়েছি এই ঘটনা অনেক আগের থেকেই। আমি এসে অনেক চেষ্টা করেও সমাধান করে উঠতে পারিনি। এখন উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট সহকারী গ্রন্থাগারিক গিয়েছে তিনারা হয়তো এর সমা্ধান দেবেন। আমাকে ডাকলে আমি সহযোগিতা করবো।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হলে তিনি এ বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে নিষেধ করেন। এবং বলেন এটা আমার স্কুলের অভ্যন্তরীন বিষয় এটা আমি সমাধান করে ফেলবো। দীর্ঘদিন যাবত একটি বিদ্যালয়ের একজন নারী সহকারী গ্রন্থাগারিক এত বড় একটি ঝামেলায় পড়ে আছেন আপনি আগে থেকে জানেন কি না। এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল খায়ের বলেন, বিষয়টি শুনেছিলাম তবে কেউ অভিযোগ না করলে কিভাবে ব্যবস্থা নেব। এখন লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক প্রায়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, নারী গ্রন্থাগারিককের লিখিত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

