তৈয়বুর রহমান কিশোর :
বছর আটেক আগে সময়ের ভাবনা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এন কে বি নয়ন আমাকে ফোনে বললেন হারান মিত্র নামের একজন তার সি বি দিবেনে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়ে নেও সময়ের ভাবনা পত্রিকায়। তার কয়েক দিনের মধ্যে হারান মিত্র তার সি বি নিয়ে আলফাডাঙ্গা কর্মরত সাংবাদিক মো. আবুল বাশারকে সাথে নিয়ে আমার কাছে এসে বলে ভাই আমাকে লেখা লেখি করার একটু সুযোগ দেন। আমি তাকে বললাম তুই লেখতে থাক। শুরু হয় হারানের সাংবাদিকতা।
তার পর আস্তে আস্তে শুরু হয় হারান মিত্রর কলম যুদ্ধ। কিছুদিন পার হতে না হতে সংবাদদাতা থেকে হারানকে দেওয়া হলো উপজেলা প্রতিনিধি। তার কিছু দিন পরে দেওয়া হলো স্টাফ রিপোর্টার। এরই মধ্যে হারান মিত্রকে ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত প্রথম দৈনিক গণসংহতি পত্রিকার সম্পাদক আশিষ পোর্দ্দার বিমান দাকে বলে তার পত্রিকার আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি হিসেবে দেওয়া হলো। বিমান দা, নয়ন ভাই ও আমার মন এতোটায় জয় করে ফেললো হারান মিত্র তা বলার মত নয়। এরই পর সময়ের ভাবনা সম্পাদক নয়ন ভাই আমাকে বললেন কিশোর হারান মিত্রকে ব্যবস্থপনা সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হলে কেমন হবে। আমি বললাম দেন। ভালো হবে। মাঝে সাংবাদিক কবির ভাই আমাকে বললো কিশোর হারান মিত্র ভালো ছেলে তাকে কি ভাবে সাংবাদিকতার জগতে বড় করবা তা আমি জানি না। আমি দেখতে চায় হারান মিত্রর নাম সাংবাদিক হিসেবে যেন চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু দিন যেতে না যেতে হারান মিত্রকে নিয়ে আলফাডাঙ্গার কিছু সাংবাদিকদের মধ্যে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়। হারান মিত্র আমাকে বলে ভাই আলফাডাঙ্গার সাংবাদিকদের ডেকে আমার সাথে মিলিয়ে দেন যাতে আমি সবার সাথে মিলে মিশে চলতে পারি। আমি নয়ন ভাইর সাথে কথা বলে আলফাডাঙ্গার সিনিয়র সাংবাদিক শ্রদ্ধীয় সেকেন্দার ভাই ও আলমগীর ভাই সহ সাংবাদিকদের বোয়ালমারী উপজেলায় ডাকবাংলোতে আসতে বললাম। ওইদিন নয়ন ভাই ডাকবাংলোয় ছিলেন। সবাইকে পেয়ে সেকেন্দার ও আলমগীর ভাইসহ সকল সাংবাদিকদের হাতে হারান মিত্রকে তুলে দিলাম।
এর পর হারান মিত্র এতোটা ভালো ছিল যে অল্পদিনে আলফাডাঙ্গার সকল সাংবাদিকের মন জয় করে সকলের প্রিয় পাত্র হয়ে গেলো। সাংবাদিকরা এতোটায় ভালো বাসতো হারান মিত্রকে তা বলে বুঝানো যাবে। পরে একদিন আমার কাছে এসে বলে ভাই আমাকে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি বানিয়ে দেন। আমি দৈনিক বর্তমান অফিসে কথা বলে আলফাডাঙ্গা সংবাদদাতা করে দিলাম। এরই মধ্যে হারান নিজের চেষ্টায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি সেট হলো। অপরদিকে শ্রদ্ধীয় ফরিদপুরের সনঞ্জিব দাস দাদা খোলা কাগজের আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ এনে দিলেন হারান মিত্রকে। কিছুদিন আগে টিভি চ্যানেল সিএনএন এর আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি সেট হয় হারান মিত্র। হারান মিত্র হয়ে উঠলো ভালো মাপের একজন সাংবাদিক ও কলম যুদ্ধা। সাংবাদিক হিসেবে সব মহলে ছিল হারান মিত্রর চাহিদা। গত বছর আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নির্বাচনে ভোটাভোটিতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমান ভোট পাওয়ায় লোটারীতে হারান মিত্র সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এ ভাবেই চলতে লাগলো হারান মিত্রর দিন। আমি হারান মিত্রর সাথে দিনে অন্তত একবার হলেও ফোনে কথা বলতাম।
ওর সাথে কথা না বলতে পারলে আমার ভালো লাগতো না। হারান মিত্র আমার এতোটায় প্রিয় ছিল। এক সময়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন ভাইয়ের এমনটি প্রিয় ছিল যে হারান মিত্র ছাড়া কিছু বুজতো না। যে দিন হারান মিত্র অসুস্থ হয় সেদিন বিকেলে বারবার ফোন দিয়েও হারানকে না পেয়ে রাতে বাসায় ফিরে ফোন দিলাম হারান মিত্র ফোন ধরে বলে ভাই আমি বোয়ালমারী হাসপাতালে ভর্তি আসেন। আমি দুরে থাকার কারণে সাংবাদিক বিপ্লবকে ফোন করে বললাম হাসপাতালে হারান ভর্তি আছে গিয়ে দেখ কি হয়েছে। বিপ্লব ও এম এম জামান ভাই কলা পা রুটি নিয়ে হারানকে দেখে আসলো। পরের দিন ২০ অক্টোবর আমি সকালে শহরে ঢুকেই হাসপাতালে গেলাম বিপ্লবকে নিয়ে হারান আমাকে বললো ভাই আমার পেটে ব্যাথা। ব্যাথা কমতেছে না। হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার গিয়াস উদ্দিনের কাছে গিয়ে বললাম হারানের কি হয়েছে। গিয়াস উদ্দিন বললেন যেহেতু ব্যাথা কমতেছে না সেহেতু আমি ফরিদপুরে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কথা বলে দিয়েছি। তাকে দেখাক।
সাংবাদিক কামরুল ভূইয়া ভাই আমাকে ফোন করে বললো কিশোর দেখতো ফরিদপুর একটা মাইক্রো ভাড়া কত নেয়। পরে আমি সাংবাদিক ইলিয়াসকে বললাম ইলিয়াস বললো ভাই ১২শ’ ঠাকা লাগবে। পরে ফরিদপুর নিয়ে গেলো। ২১ অক্টোবর ঢাকা মগবাজার ইনসাফ বারাকাহ কিডনি এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ তিনি ঢাকার মিরপুরের আল হেলাল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে মারা যায়।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৫বছর। সাংবাদিক হারান মিত্র উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চাঁদড়া গ্রাামের সুভাষ মিত্র ও সন্ধ্যা রানী মিত্রের একমাত্র ছেলে। মৃত্যুকালে সে তার ১১ বছরের ছেলে পিয়াস মিত্র ও দেড় বছরের কন্যা প্রিয়ন্তী মিত্র নামে দুই সন্তান রেখে গেছেন। আমি হাজারও সালাম জানায় আলফাডাঙ্গার সকল সংবাদকর্মীদের। কারণ তারা সব সময় হারান মিত্রর পাশে ছিলেন। বিশেষ করে সেকেন্দার ভাই সার্বক্ষনিক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন। আলমগীর ভাইও। এই জন্য তাদেরকে সহ আলফাডাঙ্গার সকল সাংবাদিকদের সময়ের ভাবনা ও গণসংহতি পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় বারবার চোখে জল গড়ে আসছে। লেখতে গিয়েও মাঝে থেমে পড়ছি। মন কেঁদে উঠছে প্রিয় সাংবাদিক ও সহকর্মী হারান মিত্রর জন্য। তার স্মৃতি যেন চারিদিকে জড়িয়ে রয়েছে।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৫বছর। সাংবাদিক হারান মিত্র উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চাঁদড়া গ্রাামের সুভাষ মিত্র ও সন্ধ্যা রানী মিত্রের একমাত্র ছেলে। মৃত্যুকালে সে তার ১১ বছরের ছেলে পিয়াস মিত্র ও দেড় বছরের কন্যা প্রিয়ন্তী মিত্র নামে দুই সন্তান রেখে গেছেন। আমি হাজারও সালাম জানায় আলফাডাঙ্গার সকল সংবাদকর্মীদের। কারণ তারা সব সময় হারান মিত্রর পাশে ছিলেন। বিশেষ করে সেকেন্দার ভাই সার্বক্ষনিক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন। আলমগীর ভাইও। এই জন্য তাদেরকে সহ আলফাডাঙ্গার সকল সাংবাদিকদের সময়ের ভাবনা ও গণসংহতি পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় বারবার চোখে জল গড়ে আসছে। লেখতে গিয়েও মাঝে থেমে পড়ছি। মন কেঁদে উঠছে প্রিয় সাংবাদিক ও সহকর্মী হারান মিত্রর জন্য। তার স্মৃতি যেন চারিদিকে জড়িয়ে রয়েছে।

