ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজমাহী প্রতিনিধি:
প্রানহীন নববধুর মরাহেদ পদ্মা নদীতে ভেসে উঠেছে। হাতে মেহেদি, গায়ে গহনা, পরনে লাল বেনারসি সারি পাড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয় প্রানহীন নববধূ সুইটি খাতুন পুর্ণিকে। আজ সোমবার সকাল অনুমান ৭ টার দিকে পবা উপজেলার শ্যামপুর বালুঘাট এলাকা থেকে নববধূর লাশ উদ্ধার করে মৎস্য জেলেরা।
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাড়ুবির ঘটনায় এনিয়ে উদ্ধার হলো ৯ জনের মৃতদেহ। তথ্যমতে নিখোঁজ সকল মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত চারদিনের এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় দমকল, বিজিবি, নৌ-পুলিশ ও বিআইডাবিøইআটিএ ডুবুরি দল।
অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির আহবায়ক এবং উদ্ধার অভিযানের সমন্বয়ক আবু আসলাম বলেন, সাঁতার জানা সুইটি ভারী কাপড়-চোপড় পরিধান করে থাকায় তলিয়ে যায় পানিতে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্ব শ্যামপুর বালুঘাটে নববধুর লাশ ভেসে উঠে। মৎস্য জেলেরা উদ্ধার করে দমকল কর্মীদের খবর দেয়। পরে তারা গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
ওই ঘটনায় নিহতরা হলেন, কনে সুইটি খাতুন পুর্ণি, তার বড় বোন শাহীনুর বেগমের স্বামী রতন আলী (৩০), তাঁদের মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৫), চাচা শামীম হোসেন (৩৫), চাচি মিনা খাতুন (৩০), চাচাতো বোন রশ্নি (৭), খালাতো ভাই এখলাস আলী (২২), কনের ফুপাতো বোন রুবাাইয়া খাতুন স্বর্ণা (১২) ও খালা আঁখি খাতুন (২৫)।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বউভাতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পদ্মার চরের খানপুর এলাকা থেকে দুইটি নৌকায় করে পবা উপজেলার ডাইঙ্গেরহাটের উদ্দেশে রওনা দেয় যাত্রীরা। চরখিদিরপুর ও শ্রীরামপুর এলাকার মাঝ পদ্মায় দুইটি নৌকা ডুবে যায়। এর পর যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান উদ্ধার করা হয় ৯ জনের লাশ। সর্বশেষ উদ্ধার হয় নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণিমার লাশ। নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেন জেলা প্রশাসন।

