বর্তমান সমাজে সবাই যেন অল্পতেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেঃ মনিরা সুলতানা - SHOMOYSANGBAD.COM

শিরোনাম

Saturday, April 17, 2021

বর্তমান সমাজে সবাই যেন অল্পতেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেঃ মনিরা সুলতানা



মতামত //সময় সংবাদঃ


যুগের পর যুগ ধরে ধৈর্যের ফলাফল কতটা সুন্দর ও শালীন হয় তার বহু প্রমাণ আমরা দেখতে পাই গুণীজনদের গুণাবলির ঝুলিতে। কিন্তু দিনে দিনে আমাদের মাঝে সহনশীল বিষয়টা কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা ক্রমশ অধৈর্য হয়ে পড়ছি। প্রাপ্তির দিকে মনোযোগী না হয়ে আমরা কেবলি অপ্রাপ্তি নিয়ে আক্ষেপ করে বর্তমান সময়কে নষ্ট করছি। অথচ প্রত্যেক সফল মানুষের জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নানা ব্যর্থতার করুণ গল্প। তারা কেউই একদিনে সফলতার উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। এর জন্য তাদের প্রত্যেককে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। 


আর তাদের সফলতা লাভের মূল চাবিকাঠি হলো নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস, প্রবল ইচ্ছা শক্তি ও ধৈর্য। কিন্তু বর্তমান সমাজে আমাদের মাঝে অনেকেই সামান্য কারণে নিজেদের মনকে ছোট করে হতাশায় ভুগি। আর আমাদের এই ভোগান্তির মূলে রয়েছে সঠিক সময়ে সঠিকভাবে চেষ্টা না করেই সফলতা পাবার আশা করা এবং আশানুরূপ তেমন ফল না পাওয়ায় অধৈর্য হয়ে পড়া। আসলে ধৈর্য না থাকলে কোনো দীর্ঘমেয়াদী কাজই সঠিকভাবে করা সম্ভব না। আর যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশ হয়ে উঠতে পারে অধৈর্য ব্যক্তির ধৈর্যের পরীক্ষা দেওয়ার উত্তম সময়।


ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের সকলেই পছন্দ করেন। আর আপনি যদি নিজেকে একজন সুশীল মানুষ হিসেবে দেখতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই এই গুণটি অর্জন করতে হবে। সহজ কিছু অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের ধৈর্য শক্তিকে বৃদ্ধি করতে পারেন। যেমন-


★ কখন আমরা অস্তির হই?

যখন দেখি আমাদের চোখের সামনেই অন্যরা অনেক বড় কিছু করে ফেলছে কিন্তু তখনও আমরা তেমন কিছু করতে পারছি না। আর এটা মেনে নিতে না পারায় বলছি-'আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না অমুক ওটা করেছে তমুকের ওটা আছে' এমন হাজারটা অভিযোগে আমরা নিজেদের ভাগ্যকে অভিযুক্ত করছি প্রতিনিয়ত। এই ভাবনাগুলো আজই মস্তিষ্ক থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন। নিজেকে কখনও অন্যের সাথে তুলনা করবেন না। 

প্রবাদে আছে- "চকচক করলেই তা সোনা হয় না"। তাই দূর থেকে যাকে দেখে আপনি নিজেকে ছোট ভাবছেন, খোঁজ নিলে জানতে পারবেন তিনি নিজেকে আরো উপরে দেখার তৃষ্ণায় তৃষ্ণার্ত, ব্যথিত ও ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা ছোটবেলা থেকেই একে অন্যকে পেছনে ফেলার চিন্তায় অস্থির থাকি আর এই অস্থিরতাই  আমাদের অধৈর্য করে তোলে। নিজেদের মধ্যে যখনই এমন কিছু উপলব্ধি করবেন তৎক্ষণাৎ নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করতে হবে। মানসিক উন্নতি ঘটলে হীনমন্যতা কমে যাবে।


★মানসিক উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য সব চেয়ে ভাল বন্ধু হতে পারে বই। 

বই পড়ার ফলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। এটি মনকে ধীর স্থির করে তোলে এবং আলাদা এক প্রশান্তি এনে দেয়। একটি ভালো বই কেবল আপনার ধৈর্য শক্তি বাড়াতেই সহযোগীতা করবে না, এটা আপনার জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও অনেকাংশে পালটে দেবে। তাই অবসর সময়ে বইকে বন্ধু বানাতে পারেন নির্দ্বিধায়। অথবা দৈনিন্দন কাজের কথাগুলো লিখে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমেও ধৈর্যের পরিধি বাড়ানো সম্ভব। 


★আপনি যদি নিতান্তই একজন অধৈর্য মানুষ হয়ে থাকেন তবে নিজেই নিজেকে কিছু চ্যালেঞ্জ করুন। 

যে কাজে আপনার একদমই মন টানে না সেই কাজটিতে মনোযোগ ধরে রাখতে চেষ্টা করুন। মনের মধ্যে থাকা সকল দ্বিধা দ্বন্দ্বকে দূরে সরিয়ে সব সময় পজিটিভ চিন্তা করতে থাকুন। 'আমি পারব না' বলা ছেড়ে দিয়ে নিজেকে সব সময় বলুন 'আমি পারব'। এতে আপনার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এবং ধৈর্যধারণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।


★মাঝে মাঝে নিজেকে নিয়ে বেড়াতে যান। খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির সাথে সময় কাটান তাতে মন ভাল থাকবে। মনের সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিজের ধর্ম অনুযায়ী ইবাদতে মনোযোগী হতে চেষ্টা করুন। প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্তকে উপহার মনে করুন। আপনি যে অস্তিত্বে আছেন সেটা যেন আপনার অবর্তমানে খুব সহজেই মুছে না যায় তার জন্য নিজেকে ধৈর্যশীল করুন। আর একজন ধৈর্যশীল মানুষের অস্তিত্বকে সময়ও বুকে ধরে আগলে রাখতে পছন্দ করে।


★মেডিটেশন বা ধ্যান করার মাধ্যমে নিজের মনকে শান্ত রাখতে পারেন। কারণ ধ্যান মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে অনেক সহযোগীতা করে। কারো মাঝে সহজেই রেগে যাওয়া বা কোনো কিছু মেনে নিতে না পারার প্রবণতা দেখা দেয় অধৈর্য হওয়ার কারণে। মেডিটেশন নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে মানুষ সহজেই রেগে ওঠে না। মেডিটেশন প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষের জন্যই উপকারী এতে শরীর মন দুই সুস্থ থাকে।


★নিজেকে বুঝুন। 

যারা সফল হয়েছেন তারা ধৈর্য ধরে নিজেদের চিনতে পেরেছেন এবং তাদের মধ্যে থাকা গুণটিকে খুঁজে বের করে তার পেছনে সময় দিয়ে, লেগে থেকে তবেই সফলতাকে ছুঁয়েছেন । মনে রাখবেন "নিজকে চিনলেই আত্মায় পরিবর্তনের বাসনা জাগে" তাই নিজেকে সময় দিন, বুঝুন কোন কাজটি করে আপনি ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন। নিজস্ব ব্যাকরনে নিজের আত্মপরিচয় গড়ে তুলুন।


★ কোনো কাজ করার আগে তার সম্পর্কে মনে মনে কিছু সহজ ক্যালকুলেশন করে নিন। কারণ বাস্তবতা খুব কঠিন। জীবন আপনাকে যখন তখন যে কোনো সারপ্রাইজ দিয়ে দিতে পারে। তাই ভাল খারাপ যে কোনো পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার মতো মানসিকতা তৈরি করুন। কখনও অতিরিক্ত নেগেটিভ চিন্তা মাথায় রেখে নিজেকে অস্তির করবেন না। লাভ ক্ষতির হিসেবে কিছুটা গোজামিল হলে ভেঙে না পড়ে সেটা মেনে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে অগ্রসর হন।


কোনো পরিস্থিতিতেই অধৈর্য না হয়ে ধৈর্য ধরে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করুন। তাতে কোনো সমস্যায় আর সমস্যা মনে হবে না। কারণ সমস্যা থাকলে তার সমাধানও থাকে। আর আমাদের সেই সমাধানের পথটি খুঁজে বের করাতেই মনোযোগী হতে হবে। 


"আর নয় হতাশায় অস্থিরতায় বুক ভার

এবার সময় এসেছে সামনে আগাবার"


 মনিরা সুলতানা

সাবেক শিক্ষার্থী চরভদ্রাসন সরকারি কলেজ। 

No comments:

Post a Comment