![]() |
| বোয়ালমারীতে মরা মুরগি বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা |
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মরা মুরগি বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ এবং জীবন্ত মুরগির পরিবর্তে তা ক্রেতাকে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বোয়ালমারী পৌর মাছবাজারসংলগ্ন স্বর্ণকারপট্টি সড়কের পোল্ট্রি মুরগির মার্কেটে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রকিবুল হাসান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মেসার্স আলামিন পোল্ট্রি হাউস নামের একটি দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি মরা মুরগি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, এক নারী ক্রেতা তিনটি মুরগি কেনার পর সেগুলো ড্রেসিং করার জন্য দিলে দোকানের কর্মীরা জীবন্ত মুরগির পরিবর্তে আগে থেকে সংরক্ষণ করা মরা মুরগিটি জবাই করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দোকানের সংস্কারকাজে নিয়োজিত এক কাঠমিস্ত্রি বিষয়টি দেখতে পান।
পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হলে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাটি ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অবহিত করে। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এ সময় আদালতে উপস্থিত দুজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলে আদালত পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ২৪(১) ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক রবিউল মোল্যাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রবিউল মোল্যা ও তার ছেলে বাপ্পি মোল্যা শিরগ্রামের একটি পোল্ট্রি খামার থেকে কম দামে অসুস্থ মুরগি কিনে এনে বিক্রি করেন। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রকিবুল হাসান বলেন, একজন ক্রেতার কেনা জীবন্ত মুরগির পরিবর্তে মৃত মুরগি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিক্রেতা নিজের দোষ স্বীকার করায় তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

