তালতলীর আন্দারমানিক নদীতে ৩২ ফুটের তিমি, দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬

তালতলীর আন্দারমানিক নদীতে ৩২ ফুটের তিমি, দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

 

তালতলীর আন্দারমানিক নদীতে ৩২ ফুটের তিমি, দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়
তালতলীর আন্দারমানিক নদীতে ৩২ ফুটের মৃত তিমি, দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়


আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলীতে আন্দারমানিক নদীর তীরে ভেসে এসেছে প্রায় ৩২ ফুট দীর্ঘ একটি মৃত তিমি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বড়বগি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কাছে নদীর তীরে স্থানীয়রা তিমিটির মরদেহ দেখতে পান।


বিশাল আকৃতির তিমি ভেসে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেটি দেখতে নদীর তীরে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সকাল থেকেই নারী-পুরুষসহ উৎসুক জনতার উপস্থিতিতে নদীর তীর এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।


স্থানীয়দের ধারণা, বঙ্গোপসাগর থেকে স্রোতের সঙ্গে ভেসে তিমিটির মরদেহ আন্দারমানিক নদীর মোহনায় এসে পৌঁছায়। পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি আবার গভীর সমুদ্রের দিকে ভেসে যেতে শুরু করে।


খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিমিটির মরদেহ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেন। নদীতে এত বড় আকৃতির সামুদ্রিক প্রাণীর মরদেহ ভেসে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


পরিবেশকর্মী ও কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য আরিফুর রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় বারবার তিমি, ডলফিনসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ ভেসে আসা উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


তিনি বলেন, মৃত তিমিটির হাড় সংরক্ষণ করে গবেষণা ও শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি মরদেহের অবশিষ্টাংশ দ্রুত মাটিচাপা দেওয়া না হলে পচে গিয়ে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


তালতলী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, কলাপাড়া ও তালতলীর সীমান্তবর্তী আন্দারমানিক নদীর দিকে মৃত তিমিটি ভেসে যাচ্ছিল। সেটিকে নিশানবাড়িয়ার দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। সেখানে মরদেহটি মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।


তিনি আরও বলেন, মাটিচাপা দেওয়ার আগে তিমিটির প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন নমুনা সংরক্ষণ করা হবে।


শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ছবিতে দেখা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে এটি একটি বেলিন তিমি বলে মনে হচ্ছে। সম্ভবত এটি ব্রাইডস তিমি। বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির তিমি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।


তিমিটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। জালে আটকা পড়া, বড় জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ, সামুদ্রিক দূষণ, প্লাস্টিক গ্রহণ কিংবা অসুস্থ অবস্থায় স্রোতের টানে অগভীর পানিতে চলে আসার মতো বিভিন্ন কারণে তিমিটির মৃত্যু হতে পারে।


তিমিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নমুনা বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন এই বিশেষজ্ঞ।



Post Top Ad

Responsive Ads Here