টাঙ্গাইলের রসুলপুরে চলছে ঐতিহ্যবাহী ‘জামাইমেলা’ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৮

টাঙ্গাইলের রসুলপুরে চলছে ঐতিহ্যবাহী ‘জামাইমেলা’


টাঙ্গাইলে তিনদিনব্যাপী জামাই মেলা শুরু হয়েছে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে বাঙালির প্রাণ। তারই ধারাবাহিকতায় শত বছর ধরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ‘জামাইমেলা’।
বুধবার শুরু হয়েছে এ মেলা। চলবে আজ সারাদিন (শুক্রবার)। এ মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতি বছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ (সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে) টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার রসুলপুর বাছিরন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় এই মেলার। তিনদিনে রসুলপুরসহ আশেপাশের অন্তত ৩০টি গ্রামের লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এই মেলায়।
সরেজমিনে সকালে মেলায় ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানীরা তাদের জিনিসপত্র নিয়ে বসে আসে, আর ক্রেতারা তা কিনছেন। ছোট ছোট ছেলে মেয়ারা এই মেলা বেশি উপভোগ করছেন। এছাড়া মেলায় মিষ্টি জাতীয় দোকানের সংখ্যা বেশি লক্ষ করা গেছে।
এ ব্যাপারে রসুলপুরের বাসিন্দা কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাশেদ রহমান বলেন, ‘এই মেলার উৎপত্তি কবে সেটা কেউ জানে না। যুগ যুগ ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে । মেলাটি বৈশাখী মেলা হিসেবে ব্রিটিশ আমলে শুরু হলেও এখন এটি জামাইমেলা হিসেবে পরিচিত। মেলাকে সামনে রেখে রসুলপুর ও এর আশেপাশের বিবাহিত মেয়েরা তাদের বরকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। মেলায় আসা একই গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ ইদ্রিস আলী বলেন, জন্মের পর থেকেই আমি এ মেলা দেখছি। এটি জামাই মেলা হিসেবে পরিচিত।
তিনি বলেন, ‘শ্বশুড়রা এ মেলা উপলেক্ষে জামাইদেরকে টাকা দেয়, আর জামাইরা এর সাথে কিছু টাকা যোগ করে মেলা থেকে বিভিন্ন কিছু কিনে। আমার একটি মেয়ে রয়েছে, তাকে বিয়ে দিয়েছি। মেয়ের জামাইকে আমি দাওয়াত দিয়েছি। তিনি ইতিমধ্যেই চলে এসেছেন।
আসক আলী ও লুৃৎফর রহমান বলেন, এক মাস থেকে এই মেলার প্রস্তুতি নেয়া হয়। লোকজন ছুটি নিয়ে মেলা দেখার জন্য আসেন। আগে বয়স্ক লোকজন এই মেলা উপভোগ করতো। এখন মধ্যবয়স্ক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা এই মেলা বেশী উপভোগ করেন । মেলায় মিষ্টি জাতীয় জিনিস বেশি বিক্রি হয়।
জামাল হোসেন নামে রসুলপুরের এক জামাই বলেন, আমি স্বাধীনতার আগে বিয়ে করেছি। প্রতি বছরই আসি মেলায়। শ্বশুর-শ্বাশুড়ি বেঁচে থাকতে তারা আগে থেকেই দাওয়াত দিতেন। এখন তারা বেঁচে নেই। শ্যালক-শ্যালকের বউ এখন দাওয়াত দেয়।
নাসির উদ্দির নামের আরেক জামাই বলেন, আমি প্রতিবছরই এই মেলায় এসেছি। মেলায় এসে আমার খুব ভালো লাগছে। শ্বশুড় বাড়ির লোকজন আমাদেরকে দাওয়াত দেন। তখন আমরা আসি।
কথা হয় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থেকে ছাদের আলী নামের এক আকড়ি ব্যবসায়ীর সাথে। তিনি বলেন, আমি এই মেলায় ১০ বছর ধরে আসছি। এখানে বিক্রি করে আমি লাভবান হই। এই মেলাটি জামাই মেলা হিসেবে পরিচিত। আশা করছি এবারও এই মেলায় আকড়ি বিক্রি করে লাভবান হবো।
জামালপুর থেকে আসা আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, বিগত বছরগুলোতে রসুলপুরের জামাই মেলায় বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছি। আশা করছি এবারও ১ লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে। সংসারের সকল যাবতীয় খরচ এর উপর নির্ভর করে।
মিষ্টি ব্যবসায়ী বাদল ঘোষ বলেন, এই মেলায় সব চেয়ে বেশি মিষ্টি বিক্রি হয়। তাই এখানে মিষ্টির দোকান অনেকগুলো রয়েছে। মেলায় আসতে আমাদের কোন সমস্যা হয়নি। মেলার কমিটির লোকজন আমাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করেছন।
এ ব্যাপারে মেলা আয়োজক কমিটির আহবায়ক আতোয়ার রহমান বলেন, আমাদের এ মেলায় প্রায় ছোট বড় মিলিয়ে কয়েক শতাধিক দোকান বসেছে। এখানে প্রায় শতাধিক লোক স্বেচ্ছায় মেলায় দায়িত্ব পালন করছেন। এই মেলা টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মেলা। এ মেলা শুরু হওয়ার আগেই গ্রামের মেয়ে এবং মেয়ের জামাই চলে আসেন। তারা বিভিন্নভাবে মেলা উপভোগ করে থাকেন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here