মেহের আমজাদ,মেহেরপুর মেহেরপুর শহরের পশুহাটপাড়া সংলগ্ন বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের সামনে অভিযান চালিয়ে ২টি বিদেশী পিস্তলসহ আবু সাইদ টুনু (৩৫) নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) শেখ মোস্তাফিজুর রহমান ওই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসী মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামের মুন্সীপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে। শহরের গোরস্থান পাড়ায় সে প্রায় ১০ বছর ধরে বসবাস করে আসছিল। সন্ত্রাসী টুনু একটি হত্যা মামলায় ৩২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এ উপলক্ষে গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে মেহেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাাফিজুর রহমান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেহেরপুর জেলায় নাশকতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সরকার বিরোধী অপশক্তির সমর্থনকারী হিসেবে আবু সাইদ টুনু কাজ করে আসছিল। তিনি আরো বলেন, আবু সাইদ টুনু একটি সক্রিয় রাজনৈতিক দলের সমর্থক। প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তার কাছে থেকে উদ্ধার করা পিস্তল দুটি ইউএসএ এর তৈরি হলেও পার্শ্ববর্তি দেশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোস্তাাফিজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের বক্ষ ব্যাধি ক্লিনিকের সামনে শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আবু সাঈদ তার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের দিকে যাচ্ছিলেন। ইজিবাইকের সামনে পুলিশ অবস্থান নিলে তার কোমরে থাকা একটি গুলিভর্তি পিস্তল বের করার চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশ তাকে জাপটে ধরে ফেলে। এবং তাকে গ্রেপ্তার করে তল্লাশি চালানোর সময় সে তার কোমরে রাখা দুটি পিস্তলের একটি বের করে গুলি চালানোর চেষ্টা চালায়। তাৎক্ষনিক তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে তার কোমরের দুই পাশে থেকে দুটি ইউএসএ তৈরি ২টি পিস্তল, চারটি ম্যাগজিন ও ১০ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, আবু সাইদ টুনু প্রায় ১৭ বছর পুর্বে গাংনী উজেলার কাজিপুর নওদাপাড়ার আখেরুল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। সেই মামলায় তার ৩২ বছরের জেল হয়। দির্ঘদিন বিদেশে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরে উচ্চ আদালত থেকে সে জামিনে ছিল। জামিনে থেকে সে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিল। খোজ নিয়ে জানা গেছে, তার পরিবারের সদস্যরাও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে।

