৪৭ বছরেও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা আলী হাসানের স্বীকৃতি;না খেয়ে থাকেন, চিকিৎসা করাতে পারছেন না ! - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

৪৭ বছরেও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা আলী হাসানের স্বীকৃতি;না খেয়ে থাকেন, চিকিৎসা করাতে পারছেন না !

হাফিজুর রহমান. ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি- প্রয়োজনীয় প্রমানাদি থাকা সত্বেও আলী হাসান নামের এক হতভাগ্য মুক্তিযোদ্ধার ৪৭ বছরেও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এমন  বাস্তবচিত্রই ফুটে ওঠেছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের চন্ডি গ্রামে।


আবেগ জড়িত কন্ঠে আলী হাসান জানান, ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজী রেখে দেশকে পাকিস্থানী হায়নাদের কবল থেকে রক্ষা করতে কাদেরিয়া বাহিনীর অধীনে বজ্র কোম্পানির মোঃ নুরুজ্জামানের প্লাটুনে একজন সিগন্যালম্যান ও সেচ্ছাসেবক হিসেবে ১১ নং সেক্টরে কাজ করেছেন তিনি। এলাকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তার কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছে। শুধু তাই নয় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তৎকালিন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক আতাউল গনী ওসমানি স্বাক্ষরিত “দেশরক্ষা বিভাগ” নামে স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র রয়েছে তার। এছাড়াও বজ্র কোম্পানির সহ অধিনায়ক সোলায়মান মিয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ফজলুল হক বীর প্রতিক, পাথরাইল ইউনিয়ন কমান্ডার শেখ আকতারুজ্জামান, দক্ষিণ টাঙ্গাইল বেসামরিক প্রশাসক ও গ্রেনেট পার্টি (সুইসাইট স্কট কমান্ডার) খন্দকার আনোয়ার হোসেন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আফাজ উদ্দিন খান সহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্র রয়েছে আলী হাসানের। স্বাধীনতা সংগ্রামের মুল সনদ পত্র হারিয়ে যাওয়ায় দেলদুয়ার থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন। সনদ পত্রের ক্রমিক নং-১২১৯৮৩।

আলী হাসান বলেন, পাকিস্থানিদের ছোড়া গ্রেনেটের একটি ক্ষুদ্র অংশ আমার কোমরে ও পায়ে লেগে যায়। যার ক্ষত চিহ্ন এখনও বয়ে বেড়াচ্ছি। উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম কমিটির কাছে উপযুক্ত প্রমান নিয়ে হাজির হওয়ার পরও তারা আমাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গ্রহন করেনি। তাই বাধ্য হয়ে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে’ আমি আপিল করেছি। আমার কোন ছেলে সন্তান নেই। অসুস্থ অবস্থায় বয়সের ভাড় মাথায় নিয়ে দিন যাপন করছি। আমার স্ত্রী বাড়ি বাড়ি তালিম দিয়ে যা পায় তা দিয়ে সংসার চলেনা।
কখনও খাই আবার কখনও না খেয়ে থাকি। সরকারের কাছে আলী হাসানের প্রশ্ন স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিদান স্বরুপ এখন আমাকে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাতে হবে কেন? কেন জীবনের শেষ সময়ে এসেও আমার প্রাপ্য স্বীকৃতি টুকু পাবোনা।
আলী হাসানের দাবি, মৃত্যুর আগে সরকারের কাছে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেতে চান। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে সরকার তার সেই আশা টুকু পুরণ করবে বলে প্রত্যাশা তার। 

Post Top Ad

Responsive Ads Here