আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- হবিগঞ্জ শহরের কোটিপতি ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ লাল দাশ চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামী বাচ্চু মিয়া ওরফে (জামাই/দুলাভাই) (৩৭) কে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ জেলা পিবিআই পুলিশ।
গতকাল মধ্যরাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা পিবিআই পরিদর্শক মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বি-বাড়ীয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার মধুপুর (চরপাড়) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।আটককৃত হত্যাকারী বি-বাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার মধুপুর গ্রামের মৃত দুধ মিয়ার পুত্র।
হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট ষ্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ লাল দাশ চৌধুরীর হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী তারা মিয়া ওরপে তারু কবিরাজ ও আজিম হোসেন সোহাগের দেয়া ১৬৪ এ দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাচ্চু (জামাই/দুলাভাই) গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ শহরের বেবী স্ট্যান্ড সংলগ্ন সুমা ষ্টোরের মালিক গৌরাঙ্গ লাল দাস চৌধুরী গত ২৬ জুলাই রাত সাড়ে ৯ টার দিকে মোবাইলে কথা বলতে বলতে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাহির হয়। কিন্তু এক ঘন্টা অতিবাহিত হলেও তিনি ফিরে না আসায় দোকান কর্মচারী লিটন বিষয়টি তার ভাইকে জানায়। তার ভাই গৌরাঙ্গ লাল দাশ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কল করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পান।
এ ব্যাপারে গত ২৭ জুলাই হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করা হয়। পরে ২৮ জুলাই শনিবার চুনারুঘাট বাগবাড়ী নিকট গৌরাঙ্গ লাল দাসের হাতে মুখে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। পরে এ বিষয়ে তার ভাই রাজ গোপাল দাস চৌধুরী বাদী হইয়া অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় প্রথমে নিহত গৌরাঙ্গ লাল দাশের পাশের ব্যবসায়ী আজিম হোসেন সোহাগকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে তারা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং তারা মিয়া ও ওরফে তারু কবিরাজ এর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাচ্চু মিয়া (জামাই/দুলাভাই) কে গ্রেফতার করা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা পিবিআই পরিদর্শক মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, বাচ্চু মিয়াকে নিজেই নিজের নাম এই নামে সবাইকে জামাই ও ছোটরা দুলাভাই নামে ডাকতে বলেতেন। তিনি আরো বলেন যে, বাচ্চু টাকার বিনিময়ে এসব কাজ করত। আজ বিকেলে বিজ্ঞ আদালতের ১০ দিনের রিমান্ডে আবেদন করা হয়েছে।

