আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- হবিগঞ্জজের নবীগঞ্জ উপজেলার বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের শ্রমিক সরবরাহের টেন্ডার সিডিউলে অনিয়ম ও লাইসেন্স জালিয়াতির অভিযোগে বিবিয়ানা গ্যাসপ্লান্টের দায়িত্বে নিয়োজিত শেভরন বাংলাদেশের ৫ কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিস দেয়া হয়েছে।
বুধবার শেভরন বাংলাদেশের বর্তমান শ্রমিক সবরবাহকারী প্রতিষ্ঠান রহমান ট্রেডার্সের পক্ষে হবিগঞ্জ জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিক এ নোটিস প্রদান করেন। সাতদিনের মধ্যে নোটিসের জবাব না দেয়া হলে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
লিগ্যাল নোটিসে উল্লেখ রয়েছে-, গত ২২ জুলাই শেভরন বাংলাদেশএর কন্ট্রাক্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মোঃ গোলাম তামজিদ এক মেইলবার্তায় বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের ৪টি প্যাডে লেবার সার্ভিস (শ্রমিক সরবরাহ) দরপত্র আহবান করেন। উক্ত দরপত্রে বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের ২২ জন ভেন্ডর ঠিকাদারকে আহবান জানানো হয়। উক্ত দরপত্রে প্রধান শর্ত দেওয়াহয় প্রত্যেক ভেন্ডর বা ঠিকাদারকে দরপত্র জমাদানের সময় তাদের ঠিকাদারী শ্রমিক সরবরাহ অফারের সাথে বাংলাদেশ কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং লাইসেন্সের কপি সাথে জমাদান করতে হবে। অন্যথায় দরপত্র বাতিল বলে গন্য হবে।
বিষয়টি গত ২৫ জুলাই শেভরন বাংলাদেশের সব ভেন্ডরদের এক মিটিংয়ে কন্ট্রাক্ট ডিপার্টমেন্ট ও কমিউনিটি রিলেশন অফিসারগণ ঠিকাদারদের অবগত করেন।
মিটিংয়ে পূনরায় উল্লেখ করা হয় আউটসোর্সিং লাইসেন্সের কপি জমাদান না করলে দরপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
কিন্তু গত ২৭ আগস্ট দরপত্র জমাদানের সময় কিছুসংখ্যক ঠিকাদার অসাধু উপায়ে অন্যের আউটসোর্সিং লাইসেন্স কম্পিউটারে স্ক্যান করে নিজের নাম ও প্রতিষ্ঠানের নাম লিখে নকল লাইসেন্স বানিয়ে দরপত্র জমা দেন।
পরবর্তীতে ঐ ভুয়া লাইসেন্স জমাদানকারীদের শেভরন বাংলাদেশ নির্বাচিত ঘোষনা করলে বিপত্তি বাধে।
বিষয়টি শেভরন বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ই-মেইলের মাধ্যমে অবগত করাহয়। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন সঠিক জবাব না পেয়ে লেবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রহমান ট্রেডার্স উক্ত দরপত্র কোটেশন বাতিলের দাবি জানিয়ে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
এ ব্যাপারে মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের পরিচালক আমিনুর রহমান স্বপন বলেন, আমরা বারবার শেভরন বাংলাদেশকে ই-মেইলের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানালেও এখন পর্যন্ত তারা কোন উত্তর দেননি।
উক্ত লেবার সার্ভিসের কোন অনিয়ম জালিয়াতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহন না করায় বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয়নিয়েছি।
এ ব্যাপারে শেভরন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ) পাবলিক রিলেশন প্রধান ওবায়দুল্লাহ আল এজাজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি দেশের বাইরে আছি, তবে বিষয়টি জেনেছি। এখনো লিগ্যাল নোটিশ হাতে পাইনি।
এ ব্যাপারে বিবিয়ানা গ্যাসপ্লান্টের পাবলিক রিলেশন অফিসার ইমাম হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা এখনো লিগ্যাল নোটিশ পাইনি, পাওয়ার পর আইন মোতাবেক জবাব দেওয়া হবে।

