পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেলেক্স এ অফিস না করে বেতন তোলে এ টি এম রফিকুল আলম - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, নভেম্বর ১২, ২০১৮

পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেলেক্স এ অফিস না করে বেতন তোলে এ টি এম রফিকুল আলম

সোমেন মন্ডল, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ  পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিসে হাজিরা না দিয়েও উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে।

 স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কতিপয় কর্মকর্তার চাহিদা অনুযায়ী তাদের ম্যানেজ করেই অফিসে অনুপস্থিত থেকেও প্রতি মাসে বেতন তোলা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে করতে গিয়ে গত দু’মাস যাবৎ তাকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। দারুসা এলাকার মনিরুল নামের এক ব্যবসায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে করতে গিয়ে ঐ কর্মচারীকে না পেয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এমন অভিযোগ একাধিক স্থানীয়র।
জানা গেছে, রাজশাহীর পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে অপারেটর এ.টি.এম রফিকুল আলমকে গত দুই মাস যাবৎ তার কর্মস্থলে হাজির হতে দেখেনি রোগীরা।
এছাড়া, গত ২০১৮ সালের আগস্ট মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। পুরা ৩ মাসের মধ্যে তিনি একদিনও অফিসে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তিনি অফিস না করেও হাজিরা খাতায় প্রতিদিন উপস্থিত। দীর্ঘ দিন ধরে এমন অনিয়ম করেও এ.টি.এম রফিকুল আলম নিচ্ছেন সরকারি বেতন ভাতা। তার এমন অনিয়মে ক্ষুব্ধ অন্যান্য কর্মচারীরা। আর এমন অনিয়ম সব কিছুই তিনি পবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হান্নানের ছত্র ছায়াতে দীর্ঘদিন যাবৎ করে আসছেন। তাই প্রতিবাদ করারও সাহস পায়না অন্যান্য কর্মচারীরা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক কর্মচারী জানান, গত ২০১৮ সালের আগস্ট মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত তিনি একদিনও অফিস করেনি। কিন্তু প্রতি মাসে পূর্ণ বেতন ভাতা উত্তোলন করে ভোগ করছে। আর এ অনিয়ম কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হান্নানকে ম্যানেজ করেই চালিয়ে যাচ্ছে।
হাজিরা খাতা ফাঁকা থাকে মাসের পর মাস। কিন্ত বেতন নিতে আসার সময় তিনি হাজিরা খাতায় একদিনে পুরো মাসের স্বাক্ষর করেন।
এ বিষয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করে এ.টি.এম রফিকুল আলম বলেন, ‘আমি নিয়মিত অফিস করি। হয়তো ডিজিটাল মেশিনে সমস্যা হতে পারে। অফিসে গিয়ে বিষয়টি দেখতে হবে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমি যদি নিয়মিত অফিসে না যেতাম তাহলে আমার দফতরে থাকা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর হলো কিভাবে? তাছাড়া আমি নিয়মিত অফিস না করলে দফতরের অন্যরা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেন।
এ ব্যাপারে ডা. আব্দুল হান্নান বলেন, এ.টি.এম রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। আসলে অনেকেই আছেন, যারা ডিজিটাল মেশিনে হাজিরা দেন, কিন্তু তা সঠিক ভাবে হয় না। আবার সঠিকভাবে দিলেও হিসাব হয় না। ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স কখনো কার্যকর হয়, আবার কখনো শিথিল থাকে। এ নিয়ে হয়তো তার সঙ্গে অন্যদের দ্বন্দ্ব হতে পারে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডাঃ সঞ্চিত কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে তদন্ত করে এ.টি.এম রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হান্নান কিভাবে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করেন এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post Top Ad

Responsive Ads Here