করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের উন্নতি না হওয়ায় ভারতে আগামী ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে দেশটির স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন আরো কঠোরভাবে পালনের নির্দেশনাও দিয়েছে।
মঙ্গলবার মহামারি নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে চতুর্থ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এখন পহেলা বৈশাখসহ নানা উৎসবের সময়। লকডাউনের ফলে মানুষ এসব উৎসবে সামিল হতে পারছেন না। যেভাবে মানুষ এই সময়েও ঘরে বসে রয়েছেন, তা যথেষ্ট প্রশংসার।
সংবাদ সংস্থা এনডিটিভির তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোট ১৩ জন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চার ঘণ্টার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ভারতের চলতি লকডাউনের মেয়াদ আরো দুই সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হবে।
তিনি এদিন বলেন, ভারতবাসী প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের মত করোনার বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। কিন্তু চলমান এই বাস্তবতায় ভারতবাসীকে আরো ধৈর্য ধরতে হবে। যদিও তিনি বলেন, এক থেকে দেড় মাস আগে যেখানে অনেক দেশ ভারতের মত গ্রাফ ছিল সেই সমস্ত উন্নত দেশগুলোতে এখন ভারতের থেকে ত্রিশ কিংবা ৩৫ গুণ বেশি করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তাই লকডাউনের বিকল্প কিছু নেই।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, এরমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে নিজস্বভাবে লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়েছে। এমনকি রাজ্যগুলো করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার করোনার বিরুদ্ধে যেভাবে লড়ছে তার কিছু তথ্য তুলে ধরে মোদি বলেন, এরমধ্যে ভারতে এক লাখেরও বেশি বেড ও ৬০০ এর বেশি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে ২২০টি ল্যাবে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষণার শুরুতেই বলেন, যখন ভারতে ৫৫০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে ঠিক তখনই আমরা ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছি। সময় মতো ওই পদক্ষেপ না নিলে আরো বড় ক্ষতি হয়ে যেত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরো বলেন, এবার আপনাদের কাছে সাতটি অনুরোধ করবো। সেটি হচ্ছে, বাড়িতে যদি প্রবীণ এবং কোনো অসুস্থ ব্যক্তি থাকে তার দিকে খেয়াল রাখুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। বাড়িতে তৈরি মাস্ক ব্যবহার করুন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চলুন। করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দেয়া এবং নেয়ার জন্য সেতু নামের সরকারি অ্যাপ ইন্সটল করুন এবং অন্যকেও ইন্সটল করতে উৎসাহিত করুন। যতটা সম্ভব গরিব দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ান; তাদের অন্য বস্ত্র অর্থ দিয়ে সাহায্য করুন। কোনো প্রতিষ্ঠান মালিক এবং দোকানের মালিক যাদের সঙ্গে অনেক কর্মী কাজ করেন তাদের এই সময় ছাটাই করবেন না এবং তাদের বকেয়া মিটিয়ে দিন এবং সবশেষ তিনি বলেন, করোনার বিরুদ্ধে দেশের জন্য এই মুহূর্তে চিকিৎসক, মেডিকেল স্টাফ, সাফাই কর্মী, পুলিশ যারা লড়ছেন তাদের সম্মান করুন।
সূত্র: এনডিটিভি
সময়/আন্ত/রাজ

