ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী:
রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশলী প্রকল্পের নির্মাণ বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রাপ্ত ঠিকাদাররা ইচ্ছে স্বাধীন ভাবে পরিচালনা করছে সরকারী বরাদ্দকৃত প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেই কোন তদারকি। শিক্ষা প্রকৌশলীর অধীনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ নি¤œ মানের কাজ হচ্ছে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার ব্যবহার সঠিক ভাবে হচ্ছে না। জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী নিয়ন্ত্রনের বাহিরে সকল ব্যবস্থাপনা।
জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী দপ্তরের তথ্য মতে, ৩৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমুহের উন্নয়ন ৬০টি স্কিমের প্রায় ৬৪% কাজ সর্ম্পূন হয়েছে। ১৯ কোটি টাকা ব্যায়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উর্ধমুখী সম্প্রসারণ ৬০টি স্কিম এর ৭১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। একইভাবে মাদ্রসা সমূহের ৩৬টি স্কিম ৮.৬ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩০ শতাংশ কাজ চলামান আছে। ১১.৬৮ কোটি টাকা ব্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সহয়েতায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে নির্বাচিত বেসরকারী কলেজ সমূহের ৪টি স্কিম উন্নয়ন সর্ম্পূণ হয়েছে। ১০০টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ (টিএসসি স্থাপন ১ম সংশোধিত) ২টি স্কিম ৫.৭৫ কোটি টাকায় ৪৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৭.৫ কোটি টাকায় সেকেন্ডারী এডুকেশন ইনেভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম সেসিপ) প্রকল্প ১৩ টি স্কিম শতভাগ নির্মাণ কাজ শেষ।
অপরদিকে, জেলা সদরে অবস্থিত ¯œাতকোত্তর কলেজের শিক্ষার গুনগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২.৫৫ কোটি টাকা ব্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়ন ১ টি স্কিমের কাজ চলামন আছে। সদর দপ্তর ও জেলা কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শক্তিশালী করণ ১টি স্কিম ৯৪% নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। রাজস্ব বাজেটের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ ৫০টি স্কিম, বাংলাদেশ ভূমি জরিপ শিক্ষার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প ২টি স্কিম ২ শতাংশ এবং নির্বাচিত সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন ৪টি স্কিম এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। বার্ষিক মেরামত ও সংস্কার কর্মসূচির আওতায় সরকারী- বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২শত গ্রæপের কাজ চলমান রয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল থাকায় নিার্মণ কাজের গতি খুবই মন্থর। যার তদারকি ঠিকাদার নিজেই করছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, বিগত দিনে রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশলীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব কালিন সময়ে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেটে আচ্ছন্ন ছিল সকল ব্যবস্থপনা। হেলে দুলে চলছিল কার্যালয়ের সকল কার্যক্রম। গত ২৭ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী রোজাউল ইসলাম রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করেন। তারপর থেকেই একটু একটু করে পরিবর্তন হতে থাকে দাপ্তরিক কার্যক্রম। তবে কোন এক অদৃশ্য কারণে পরির্বতন আসেনি কর্মকর্তার যোগ্যতার। একইভাবে প্রকল্প নির্মান কাজের গুনগত মানের উন্নয়নের পরিদর্শন করার কোন ক্ষমতা নেই প্রকৌশলী কর্মকর্তার।
শিক্ষা প্রকৌশলীর ১২টি প্রকল্পের নির্মান চলামন আছে, তবে ঠিকাদার তাদের নিজের ইচ্ছে স্বাধীন ভাবে কাজ করছে। ঢাকা প্রধান কার্যালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রন করায় এই জেলা দপ্তরের কোন ভুমিকা নেই। জেলার অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন তথ্য ভবন নিার্মাণ কাজের মান ও উৎকর্যের দিক দিয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে। দাপ্তারিক ব্যবস্থাপনায় ফিরেছে শৃঙ্খলা। নির্মাণ কাজের ঠিকাদার নিস্কৃতি পেয়েছে পক্ষপাতিত্ব, বৈষম্য ও বাঞ্চনার হাত থেকে। যার কারনে ঠিকাদার পক্ষ থেকে আসে নানা ধরনের হুমকি। এছাড়া এই দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলীর ৪টি পদ থাকলে রয়েছে ১ জন সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ১৫ জনের মধ্যে কর্মরত আছে ৬জন, হিসাব রক্ষক পদ শূন্য এবং ৫০টি কম্পিউটর পদের মধ্যে কাজ করছে ৩ জন। দীর্ঘ দিনের এই চলমান জনশূন্য নিয়ে সঠিক ভাবে দাপ্তরিক কাজের উন্নয়ন মান নির্নয় করা সম্ভব নই।
সর্বপরি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকটে সার্বিক বিষয়ে বহুবার চাহিদা দেয়ার পরেও কোন সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। রাজশাহী জেলাসহ বিভিন্ন জেলা শিক্ষা প্রকৌশলীর দপ্তরের একই চিত্র প্রমান বহন করছে। এছাড়া জেলা শিক্ষা দপ্তরে প্রকৌশলী কর্মকর্তার হাতে সিন্ধান্ত নেয়ার কোন ক্ষমতা নেই। যার দরুন নির্মাণ কাজসহ সরকারী বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না বলে জানান জেলা শিক্ষা প্রকৌশলীর নির্বাহী প্রকৌশী রেজাউল ইসলাম (রেজা)।

