সময় সংবাদ ডেস্কঃ
হবু স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে রাতে দোকানেই ঘুমাতেন আজম। সেখানে তার খাবার এনে দেন বড় ভাই সরোয়ার। পরে খাওয়া ঠিকমতো হয়েছে কিনা ফোন করে খোঁজখবরও নেন। কিন্তু বড় ভাইয়ের সেই স্নেহের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ছোট ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা। খাবারের সঙ্গে মেশানো ছিল ইঁদুরের ওষুধ। খাওয়া শেষে অচেতন হয়ে পড়লে গলায় ছুরি চালিয়ে তাকে হত্যা করেন বড় ভাই।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বন্ধ দোকানের ভেতর থেকে মুদি দোকানির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার ভাই সরোয়ারকে আটক করে পুলিশ। এরপরই বেরিয়ে আসে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২ জুন সকালে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মন্দাকিনী এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। আজম ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, খাবার দিয়ে যাওয়ার পর আজম সেই খাবার খেয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত হতে দোকানে এসে তাকে ডাকতে থাকেন সরোয়ার। দোকান খোলার পর অচেতন হয়ে পড়ে যান আজম। এরপর অচেতন কিনা তা নিশ্চিত হতে আজমকে বেশ কিছুক্ষণ গালিগালাজ করেন সরোয়ার। কিন্তু আজম সাড়া না দেয়ায় ওষুধে কাজ হয়েছে বলে নিশ্চিত হন তিনি। এরপরই গলায় ছুরি চালিয়ে তাকে হত্যা করেন।
হত্যার পর দোকানের ভেতর থেকে সার্টারের দুটি নাট খুলে রাখলেও পরে আবার বেরিয়ে তালা ও নাট লাগিয়ে বাসায় চলে যান সরোয়ার। পরদিন সকালে আজম ঘুম থেকে না ওঠায় ওপরের টিন খুলে দোকানের ভেতরে লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। সে সময় উপস্থিত সরোয়ার নিজের পরিকল্পনা আরো নিখুঁত করতে সবার আগে লাশের পাশে পড়ে থাকা কিরিচটি স্পর্শ করেন। আঙ্গুলের ছাপ রয়ে যাওয়ায় আটকে যেতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে পরিকল্পনা সম্পন্ন করেন তিনি।
চট্টগ্রাম জেলার এসপি এসএম রশীদুল হক বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরোয়ারের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেয়া তথ্যমতে সেই দোকান থেকে রক্তে ভেজা গামছা ও রক্ত ধোয়া পানিভর্তি বালতি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

