জেলা প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজার শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলেছে। কেউ ভাড়া বাসায় কেউবা আবার জমি কিনে নিজস্ব বসতবাড়িতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া পূর্বে আসা (অর্থাৎ ২০১৭ সালের আগে) আরো সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজার বান্দরবান ও চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যা অনেকে বাংলাদেশি এনআইডি ও জন্মসনদ ও বানিয়ে নিয়েছেন। শুধু মাত্র কক্সবাজার চট্রগ্রামে ৫৫ হাজারের ও বেশি রোহিঙ্গা ভোটার আইডি কার্ড বানিয়েছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
কক্সবাজার শহরের কলাতলী, লারপাড়া, হাজীপাড়া, লিংকরোড়, কলেজ গেট, মহুরীপাড়া, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, বাংলাবাজার, সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, ঘোনারপাড়া, নাজিরারটেক পাহাড়তলী, বাদশাহ ঘোনা, বৈদ্যঘোনা, খাজা মনজিল, ইসলামপুর, হালিমাপাড়া, খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, ঈদগাঁও,রামু,চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, উখিয়া ও মহেশখালীতে প্রতিটি গ্রামে রয়েছে রোহিঙ্গাদের বসতি। রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ মাছ ধরার ফিশিং বোটে চাকরি করে। কেউবা রিকশাচালক, দিনমজুর। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছে বিশেষ করে মাদরাসায় ও এতিম খানায় রোহিঙ্গা শিশুরা অবাধে বিচরণ করছে ফলে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে এসব রোহিঙ্গারা। এমনকি কক্সবাজারে শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১১টি মাদরাসা পরিচালনা করছেন রোহিঙ্গা নাগরিক।
বিশেষ করে শহরের কলাতলীর আদর্শ শিক্ষা নিকেতন, লিংক রোড় মুহুরী পাড়ার আদর্শ শিক্ষা নিকেতন ও কক্সবাজার সরকারি কলেজ সংলগ্ন ইমাম মুসলিম মাদরাসা ও রিসার্চ সেন্টারসহ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯০ শতাংশ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী হচ্ছেন রোহিঙ্গা। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জঙ্গি প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইমাম মুসলিমের পরিচালক রোহিঙ্গা নাগরিক হাফেজ সালাউল, মহুরীপাড়া আদর্শ শিক্ষা নিকেতন এর পরিচালক সালামত উল্লাহ ওতার অন্যতম সহযোগী কামাল হোসেন ২০১২ সালে রামু বৌদ্ধ মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারসহ বৌদ্ধ বসতিতে অগ্নি সংযোগ মামলার অন্যতম আসামি। তাদের সহযোগী ছিল ৫ শতাধিক। হাফেজ সালাউল ও সালামত উল্লাহ ওই মামলায় গ্রেফতারও হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন হাজত বাসের পর জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। কক্সবাজারে এমন কোন হোটেল রেস্তোরাঁ নেই যেখানে রোহিঙ্গা চাকরিজীবী নেই। আবার কেউ কেউ নানানভাবে অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত।
আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের আহ্বায়ক মো. কলিম উল্লাহ বলেন, যেভাবে কক্সবাজার শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় রোহিঙ্গাদের আনাগোনা বেড়েছে আগামী ৪-৫ বছর এ ধারা অব্যাহত থাকলে কক্সবাজারের সব শ্রম বাজার রোহিঙ্গাদের দখলে চলে যাবে। শুধু কী তাই,কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ হোটেলে রোহিঙ্গা যুবতীরা যৌন কর্মী হিসেবে ভাড়া খাটছে। কক্সবাজার শহর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নানা অপরাধ প্রবণতা,বিশেষ করে চুরি, ডাকাতি,ছিনতাই,ইয়াবা পাচার,সডকে ব্যরিকেড দিয়ে ডাকাতি এবং জলদূস্যতাসহ মানব পাচারে নেতৃত্ব দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নানা হয়রানি করছে এসব রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটির সভাপতি আতা উল্লাহ খাঁন জানান, শুধুমাত্র কক্সবাজার শহরেই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলেছে। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও নিবন্ধিত। রোহিঙ্গা শিবিরের সুযোগ সুবিধা ও তারা পুরোদমে গ্রহণ করছেন।
কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান বলেন, রোহিঙ্গাদের দাপট কক্সবাজারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তৎপর হলে কক্সবাজার শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়কে রোহিঙ্গা মুক্ত করা এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগার কথা নয়। রোহিঙ্গা রিকশাচালক, টমটম চালকের হাতে প্রতিনিয়ত পর্যটক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনী, এপিবিএন,পুলিশ, বিজিবি ও যৌথ চেক পোস্ট ফাঁকি দিয়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কক্সবাজার শহরে আসা টমটম চালক মো. আবদুল্লাহ জানান, ১৫ দিন পর পর সে ক্যাম্পে চলে যান, পরদিন আবার কর কর্মস্থলে ফিরে আসেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ( এপিবিএন) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা সহ যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা দমন করতে এপিবিএনের সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়াও আমাদের আরো তিনটি চেকপোস্ট রয়েছে। এসব চেকপোস্ট অতিক্রম করে রোহিঙ্গারা যাতে পারাপার করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আগামী ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা আগমনের ৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ দিন রোহিঙ্গারা সভা সমাবেশ করার চেষ্টা করে। এ বছর এধরনের সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সব ক্যাম্পে বলে দেয়া হয়েছে।

