নিহতের কামড়ের দাগ থেকে আসামী শনাক্ত - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

নিহতের কামড়ের দাগ থেকে আসামী শনাক্ত


 


জেলা প্রতিনিধিঃ



কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামের বাড়িতে একা বসবাস করতেন ৬০ বছরের বৃদ্ধা মাজেদা বেগম। মাজেদা ওই গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। দুর্বৃত্তদের নিকট তথ্য ছিলো ওই বৃদ্ধার ঘরে জমি বিক্রির অন্তত ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা রয়েছে। রয়েছে স্বর্ণালংকারও।



টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের জন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে পা বেঁধে ওই বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘরে কোন টাকা পায়নি তারা। স্বর্ণালংকার নিয়েই পালিয়ে যায় তারা। হত্যার সময় মাজেদা নিজেকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।


তিনি ঘাতক রনির আঙুলে কামড় দিয়েছেন। রনির মধ্যমা ও বৃদ্ধা আঙুলে সেই দাগ দেখা গেছে।  

মঙ্গলবার কুমিল্লা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই, কুমিল্লার পুলিশ পরিদর্শক মো. তৌহিদুর রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মাহফুজ, মো.মতিউর রহমান, হিলাল উদ্দিন, বিপুল চন্দ্র দেবনাথসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।



   

   

সূত্রমতে, হত্যার পরদিন দেবিদ্বার থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে মো.মারুফুল আলম। গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজ উদ্যোগে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে পিবিআই কুমিল্লা। গ্রেপ্তার করা হয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনকে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে লুট হওয়া স্বর্ণালংকারও।  

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই, কুমিল্লার পুলিশ পরিদর্শক মো.তৌহিদুর রহমান বলেন, খুন হওয়া মাজেদার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।


তাঁর স্বামী মারা গেছেন। ছেলেরা কুমিল্লা ও গাজীপুরে থাকেন। মেয়েরা থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। এই সুযোগটিতে কাজে লাগিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।  

পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান বলেন, আলোচিত এই মামলাটি ছিলো একেবারেই ক্লু-লেস। সাত দিনের মধ্যে সোমবার বিকেলে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যায় জড়িত জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানি গ্রামের গ্রামের মিজানের ছেলে মো.রনিকে (২২) গ্রেপ্তার করি। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পুরো হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া স্বর্ণের কানের দুল উদ্ধার করি।   


জিজ্ঞাসাবাদে রনি পিবিআইকে জানিয়েছে, তারা তিনজন মিলে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো জমি বিক্রির টাকা লুট করা। কিন্তু ঘরে কোন টাকা ছিলো না। আর তারা অনেকগুলো গহনা লুট করলেও কানের দুল ছাড়া সব ছিলো ইমিটেশন। কানের দুল সাড়ে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। এর মধ্যে রনি ভাগ পায় ২৬’শ টাকা। বাকিটা অপর দু’জন ভাগ করে নেয়।  


পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান আরও বলেন, মামলার অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার রনিকে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।  

Post Top Ad

Responsive Ads Here