জেলা প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ১০ যাত্রী বেঁচে ফিরলেও এখনো নিখোঁজ আছেন অনেকে। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বরগুনার নৌ-বন্দরে অপেক্ষা করেও নিখোঁজ যাত্রীর খোঁজ পাননি স্বজনরা।
স্বজনদের তথ্যমতে, বরগুনার ১৯ জন নিখোঁজ আছেন। তারা হলেন- বরগুনার মাইঠা এলাকার ইদ্রিস খান, নলী এলাকার আবদুল হাকিম, চাঁদপুরের মনোয়ারা, পাথরঘাটার টেংরার পপি আক্তার, পাথরঘাটা পৌরসভার তালতলা এলাকার আবদুর রাজ্জাক, পাথরঘাটার কালমেঘার কালিবাড়ি এলাকার রাকিব মিয়া, বরগুনা সদরের হাফেজ তুহিনের মেয়ে (নাম অজ্ঞাত), সদরের ছোট আমতলী এলাকার জয়নব বেগম, মির্জাগঞ্জ উপজেলার রিনা বেগম ও তার মেয়ে রিমা, বরগুনা সদরের পরীরখাল এলাকার রাজিয়া ও তার মেয়ে নুসরাত, সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের মইন, তার ছেলে আবদুল্লাহ ও শালি আছিয়া, বরগুনা ঢলুয়া এলাকার মোল্লারহোড়া গ্রামের তাসলিমা, তার মেয়ে মিম ও তানিশা এবং ছেলে জুনায়দ।
বরগুনার সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের রিপন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আমার ফুপাত ভাই মইন, তার ছেলে আবদুল্লাহ ও তার শালী আছিয়া নিখোঁজ আছে। হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে খোঁজ নিলেও তাদের সন্ধান মেলেনি।
বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে আগুনের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠির কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দগ্ধদের মধ্যে ৭২ জনকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়। এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ২৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন- বরগুনার ঢলুয়া ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের মইন, আব্দুল্লাহ, আছিয়া, বরগুনার বুড়িরচর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামের ইদ্রিস খান, চাঁদপুরের মনোয়ারা, পাথরঘাটার পপি আক্তার, পাথরঘাটার কালমেঘা ফকির বাড়ি মাদরাসার শিক্ষক আ. রাজ্জাক, কালমেঘার রাকিব, বরগুনার আমতলি গ্রামের জয়নব বেগম, মৃজাগঞ্জ উপজেলার রীনা বেগম ও তার মেয়ে রীমা, বরগুনার পরিরখাল গ্রামের মা রাজিয়া, মেয়ে নুসরাত, বরগুনার মোল্লার হোড়া গ্রামের মা, তাসলিমা মেয়ে মীম, তানিশা ও ছেলে জুনায়েত, বরগুনার বুড়িরচর ইউনিয়নের মানিকখালী গ্রামের আ. হাকিম, তার স্ত্রী পাখি বেগম, ছেলে নসরুল্লাহ, বেতাগীর জাহানারা বেগম, পাথরঘাটার শিশু তাবাসসুম, বরগুনার রোডপাড়া গ্রামের তাইফা, বেতাগীর কাজীরাবাদ গ্রামের এনামুল হক রিয়াজ, তালতলি উপজেলা ছোটবগীর কামাল সিকদারের স্ত্রী রেখা, তার নাতী জুনায়েত।
লঞ্চ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা বরগুনা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের হেউলিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা সাদিক মৃধা বলেন, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত পৌনে ৩টার দিকে ইঞ্জিনরুম থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হয়। মুহূর্তে গোটা লঞ্চ ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এ সময় ডেকে ঘুমন্ত যাত্রীরা জেগে উঠে ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ নদীতে ঝাঁপ দেয় আবার অনেকে চিৎকার করেন। এক পর্যায়ে উদ্ধারে কয়েকটি ট্রলার এগিয়ে আসে এবং যাত্রীদের অনেকে ট্রলারে উঠে তীরে নামেন।
তিনি আরো বলেন, মূলত আগুন লাগার পর লঞ্চটি তীরে নোঙর করার মত কেউ ছিল না। লঞ্চ জোয়ারের তোড়ে ভাসতে থাকে।
বরগুনা নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বলেন, লঞ্চটিতে বিভিন্ন বয়সের ৩০০-৪০০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের উদ্ধারে বরিশাল নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আমরা খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছি।
