জেলা প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলে মাদরাসা শিক্ষককে অপহরণের পর বিকাশের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের সময় অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১২ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আটককৃতরা হলেন- টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে মো. রুবেল মিয়া, মো. আব্দুর রাজ্জাক মৃধার ছেলে মো. শাওন মৃধা ও কচুয়া ডাঙ্গার নূর মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. আব্দুল আল মামুন। শহরের সাবালিয়া তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসার এক শিক্ষককে অপহরণের দায়ে তাদের আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক র্যাবকে জানান, অপহরণকারী চক্রের ৮-১০ জন সদস্য তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলত ও ভিডিও করতে বাধ্য করেছে। অপহরণের ঘটনা প্রকাশ করলে সেসব ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। এছাড়া অপহরণকারীরা তাকে অনেক মারধরও করেছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সাবালিয়া তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসার ওই শিক্ষককে ২১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন মাইক্রোস্ট্যান্ড থেকে ধারালো অস্ত্রের মুখে চোখ বেঁধে জিম্মি করে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। ভুক্তভোগীর বড় ভাই টাঙ্গাইল র্যাব অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়েই মাঠে নামে র্যাব।
অনুসন্ধান র্যাব জানতে পারে- ভুক্তভোগী ও অপহরণকারীরা টাঙ্গাইল পৌর শহরের আকুর টাকুর পাড়ায় অবস্থান করছে। এরই মধ্যে অপহরণকারীরা কয়েকবার স্থান পরিবর্তন ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে কয়েকবার যোগাযোগ করে এবং বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা পাঠাতে বলে। সেই টাকা পেয়েও অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীকে মুক্তি না দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে থাকে।
র্যাব কর্মকর্তা মামুন জানান, ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। ঐ সময় অপহরণকারীরা র্যাবের
উপস্থিতি বুঝতে পেরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় অপহৃত শিক্ষককে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঐ শিক্ষককে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার মো. রুবেল মিয়া ও দুই
সহযোগী মো. শাওন মৃধা, মো. আব্দুল আল মামুনকে আটক করা হয়। ঐ সময় তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষকের আপত্তিকর ছবি-ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
