এইচআইভি ভাইরাসের ঝুঁকিতে খুলনা | সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, জুন ০১, ২০২২

এইচআইভি ভাইরাসের ঝুঁকিতে খুলনা | সময় সংবাদ

 

এইচআইভি ভাইরাসের ঝুঁকিতে খুলনা | সময় সংবাদ
এইচআইভি ভাইরাসের ঝুঁকিতে খুলনা | সময় সংবাদ


সময় সংবাদ ডেস্ক:



সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় খুলনা বিভাগে এইডসের ভয়াবহতা ঝুঁকিতে রয়েছে। যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এইডসের সংক্রমণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তুলনামূলক কম হলেও খুলনা বিভাগের মধ্যে ৪ জেলার মানুষ এ ঘাতক ব্যাধির ঝুঁকিতে রয়েছে।



গত ৭ মাসে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এআরটি (অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টার থেকে ৫১০ জনকে এইচআইভি এইডস পরীক্ষা করে নতুন করে ৪২ জনের এইডস শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ ২৩ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয় ৩ জনের। প্রতি মাসে গড়ে শনাক্ত হচ্ছেন ৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইলের বাসিন্দা বেশি রয়েছেন। যার কারণে এ ৪ জেলার মানুষ বর্তমানে এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে।



২০২১ সালে এআরটি সেন্টার থেকে ১ হাজার ২৮ জনকে এইচআইভি এইডস পরীক্ষা করে শানক্ত হয় ২৮ জনের। এর মধ্যে খুলনার বাসিন্দা ১৮ জন। এ সময়ের মধ্যে এইডস আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ৭ জন। এর মধ্যে খুলনার বাসিন্দা ৪ জন।


খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, একমাত্র সচেতনতাই পারে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে। আর স্ক্রিনিং টেস্ট বাড়াতে হবে। পাশের দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে যেকোনো সময় এইডস বাড়তে পারে বাংলাদেশে। কারণ ভারত ও মিয়ানমারে এইডসের প্রচুর রোগী আছে। এজন্য প্রথমেই সচেতনতা বাড়িয়ে স্ক্রিনিং টেস্ট বাড়াতে হবে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকা ও বিদেশ গমনকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে এইচআইভি এইডস পরীক্ষা করাতে হবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, অভিবাসী, পুসব্যাক হওয়া জনগণ এবং বেশি আক্রান্ত পাওয়া এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দেয়া।


সিভিল সার্জন আরো বলেন, বেশিরভাগ মানুষই জানে না তাদের এইডস হয়েছে। জানলেও বিভিন্ন কারণে গোপন রাখেন। এইডস দুইভাবে ছড়ায়, শারীরিক মিলন ও রক্তের মাধ্যমে। দেশে এতদিন পর্যন্ত যতজন নারী আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের কেউই সরাসরি হননি। প্রত্যেকেই আক্রান্ত হয়েছেন শারীরিক মিলনের মাধ্যমে।


খুমেক হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর দিবেশ ওঝা বলেন, গত ৭ মাসে এআরটি সেন্টার থেকে ৫১০ জনের এইচআইভি এইডস পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে এইডস পজিটিভ পাওয়া যায়। এর মধ্যে পুরুষ ২৩ জন এবং নারী রয়েছেন ১৯ জন। একই সময়ের মধ্যে এইডস আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে খুলনার একজন পুরুষ এবং নড়াইলের দুই জন নারী রয়েছেন। 


শনাক্তের মধ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর এবং নড়াইলের বাসিন্দাদের বেশি পাওয়া গেছে। এইডস শনাক্তের মধ্যে নভেম্বরে ৮ জন, ডিসেম্বরে একজন, এ সময়ে এইডস আক্রান্ত দুইজন নারীর মৃত্যু হয়। তারা নড়াইলের বাসিন্দা। জানুয়ারিতে শনাক্ত হন ১০ জন। এ মাসে একজন পুরুষের মৃত্যু হয়। তিনি খুলনা সদর এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, মার্চে ৬ জন, এপ্রিলে ৯ জন এবং মে মাসে এইডস শনাক্ত হয় ৫ জন।


দিবেশ ওঝা আরো বলেন, এর মধ্যে যেগুলো হয়েছে বা হচ্ছে তাদের বেশিরভাগই বিদেশ ফেরত বা যাতায়াত বেশি। প্রবাসীদের যখন এইডস হয়, তখন তারা নিজেরাও জানে না। বেশির ভাগ প্রবাসীই বিদেশ থেকে এসে বিয়ে করে বা সন্তান নেয়। সেখান থেকেই মায়েদের এবং সন্তানের শরীরে যায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে শনাক্তের মধ্যে সমকামী জনগোষ্ঠীরা।


উল্লেখ্য, ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গত এক বছরে খুমেক হাসপাতালের এআরটি সেন্টার থেকে এইডস পরীক্ষার মধ্যে ২৮ জনের শরীরে এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া যায়। এর মধ্যে খুলনার বাসিন্দা ১৮ জন। এছাড়া যশোরে ৬ জন, এবং বাগেরহাটের ৪ জন। পজিটিভ হওয়ার রোগীর মধ্যে পুরুষ ১৭ জন, নারী ৯ জন এবং শিশু ২ জন। 


একই সময়ে এইডস আক্রান্ত ৭ জন রোগী মারা যায়। মারা যাওয়ার মধ্যে খুলনায় ৪ জন, বাগেরহাটে ২ জন এবং নড়াইলের একজন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৪ জন, নারী ২ জন এবং শিশু একজন। 


সম্প্রতি খুলনা সিভিল সার্জন দফতরের এইচআইভি এইডস প্রতিরোধ বিষয়ে এক আলোচনা সভায় জানানো হয়, গত এক বছরে খুমেক হাসপাতালে এআরটি সেন্টারে রেফার রোগী সংখ্যা ছিলো ২৪ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের সেবা গ্রহণকারী ৪৩৬ জনের মধ্যে ২২৫ জন পুরুষ ও ২০৮ জন নারী রয়েছেন। 


এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক রয়েছেন তিনজন। ওই কেন্দ্রের আওতায় এইচআইভি জীবাণু বহণকারীদের মধ্যে খুলনার ১৪৯ জন, যশোরের ১০৬ জন, সাতক্ষীরার ৫৫ জন, বাগেরহাটের ২৬ জন, বরগুনার দু’জন, বরিশালের একজন, চুয়াডাঙ্গার পাঁচজন, ফরিদপুরের চারজন, ঝিনাইদহের ১৩ জন, গোপালগঞ্জের ৮ জন, ঝালকাঠির একজন, মাদারীপুরের একজন, মাগুরার ১০ জন, নড়াইলের ৪৬ জন, পটুয়াখালীর একজন, পিরোজপুরের ৪ জন, রাজশাহীর একজন এবং জেলা উল্লেখ না করা দুই জন রয়েছেন।


Post Top Ad

Responsive Ads Here