খাগড়াছড়ি-গুইমারায় সহিংসতা নিয়ে সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫

খাগড়াছড়ি-গুইমারায় সহিংসতা নিয়ে সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি

ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা ব্যর্থ

খাগড়াছড়ি-গুইমারায় সহিংসতা নিয়ে সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি
খাগড়াছড়ি-গুইমারায় সহিংসতা নিয়ে সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি



মো: নাজমুল হোসেন ইমন, স্টাফ রিপোর্টার:

পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে রোববার দিবাগত রাতে সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।


আইএসপিআর জানায়, ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মোটরসাইকেল চালক মামুন হত্যাকে কেন্দ্র করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) মূল ও অঙ্গসংগঠনগুলো দীঘিনালা ও রাঙামাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন।


এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে চলতি বছর ইউপিডিএফ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আবারও সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে।


গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এ মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। তবে শয়ন শীল গ্রেপ্তার হলেও ইউপিডিএফের অঙ্গসংগঠন পিসিপি ও সংশ্লিষ্ট নেতারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দেন।


২৫ সেপ্টেম্বর ইউপিডিএফের ডাকে খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়। এর আগে-পরেও দেশি-বিদেশি ব্লগার ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অনলাইনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন।


২৬ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালে ইউপিডিএফ সমর্থকরা সেনা টহল দলের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে, এতে তিন সেনাসদস্য আহত হন। ২৭ সেপ্টেম্বর উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়—বাঙালি ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, গুলি, ভাঙচুর এবং অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ পর্যন্ত চালানো হয়। এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে এবং প্রশাসন খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করে।


২৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় সহিংসতা নতুন মাত্রা পায়। ইউপিডিএফের নেতৃত্বে উশৃঙ্খল লোকজন সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল, গুলতি ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এতে তিন সেনা কর্মকর্তা ও ১০ সদস্য আহত হন। একই সময়ে রামগড়ে বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর ও সদস্যদের আহত করার ঘটনাও ঘটে।


সংঘর্ষ চলাকালে পাহাড় থেকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র দল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে ১০০-১৫০ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সেনা ও বেসামরিক অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। সেনাদল ধাওয়া দিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীরা রামসু বাজার ও আশপাশের এলাকায় অগ্নিসংযোগ করে। বিকেল নাগাদ অতিরিক্ত সেনাদল মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


আইএসপিআর আরও জানায়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে ইউপিডিএফ শিশু ও নারীদের ব্যবহার করছে এবং বহিরাগত অস্ত্রধারীদের পাহাড়ে ঢোকাচ্ছে। বিজিবির চেকপোস্টে ইউপিডিএফের পরিবহনকৃত বিপুল দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সহিংসতা পার্বত্যাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। সেনাবাহিনী রাজনৈতিক নেতা, জনগণ ও সব সম্প্রদায়ের প্রতি সংযমী হওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়।


বিবৃতির শেষে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানায়—সব ধরনের অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



Post Top Ad

Responsive Ads Here