বাজেট সংকট ও মিশন সংকোচনের প্রভাব, ধাক্কা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে
![]() |
| জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ পুলিশ প্রত্যাহারের নির্দেশ |
মোঃ নাজমুল হোসেন ইমন, স্টাফ রিপোর্টার:
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চলমান সংকোচন ও বাজেট ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র অবশিষ্ট ফর্মড পুলিশ ইউনিট (FPU)-কে গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো (DR Congo) থেকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে জাতিসংঘ।
এর মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের গৌরবময় অংশগ্রহণে বড় ধাক্কা লাগলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, কঙ্গো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ সুদান—এই তিন মিশনে সদস্যসংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানো হচ্ছে। তবে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের মুখোমুখি একমাত্র দেশ বাংলাদেশ।
ক্যামেরুন, সেনেগাল ও মিশরের পুলিশ ইউনিটে আংশিক কাটছাঁট হলেও, বাংলাদেশ পুলিশের পুরো ইউনিট প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কঙ্গোতে বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিটে রয়েছেন ১৮০ জন সদস্য, যার মধ্যে ৭০ জন নারী কর্মকর্তা। তাদের বেশিরভাগই জাতিসংঘের একমাত্র সর্বমহিলা পুলিশ ইউনিটে কর্মরত, যারা মাত্র দুই মাস আগে সেখানে দায়িত্ব নেন।
সূত্র জানিয়েছে, ১৬২ জন সদস্যকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। বাকি ১৮ জন প্রশাসনিক ও লজিস্টিক কাজ শেষ করে নভেম্বরের মাঝামাঝি দেশে ফিরবেন।
একজন অতিরিক্ত ডিআইজি (পুলিশ সদর দপ্তর) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“জাতিসংঘের বাজেট সংকট ও ডাউনসাইজিং নীতির কারণে এফপিইউ ইউনিট ফিরিয়ে আনার মৌখিক নির্দেশ এসেছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো না এলেও বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, কারণ আমাদের ইউনিটটি অসাধারণ পারফর্ম করছিল।”
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) শাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, যিনি ৫ বছর আগে জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত ছিলেন, বলেন, “সাধারণত জাতিসংঘ ডাউনসাইজিং করলে সব দেশের ক্ষেত্রেই তা সমানভাবে করে। এবার শুধু বাংলাদেশকেই পুরোপুরি ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এটি কূটনৈতিক দুর্বলতার ইঙ্গিত।”
বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিচ্ছে। নামিবিয়ায় প্রথমবার পুলিশ সদস্য পাঠানোর পর থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ২৪টি দেশে ২৬টি মিশনে ২১ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন।
নারী পুলিশ ইউনিট ২০০৫ সাল থেকে কঙ্গোতে দায়িত্ব পালন করছে। এ বছরের আগস্টে তাদের মেডেল প্যারেডে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, যা ছিল বাংলাদেশের প্রতি আস্থার প্রতীক।
একজন সিনিয়র নারী কর্মকর্তা বলেন, “নারী পুলিশের এফপিইউ শুধু পুলিশের নয়, জাতীয় গৌরবের প্রতীক। সরকারের উচিত দ্রুত কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধান করা।”
তিনি আরও বলেন,“বাংলাদেশ পুলিশের এফপিইউ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্রশংসা পেয়েছে। এই প্রত্যাহার কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
জাতিসংঘ সম্প্রতি তাদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এর অংশ হিসেবে কিছু মিশনের আকার ছোট করা হচ্ছে এবং নতুন কনটিনজেন্ট পাঠানোর ক্ষেত্রে সংযমী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

