
বোয়ালমারীতে বেহাল গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ
আব্দুল্লাহ আল মামুন রনী, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বেলজানী-খরসূতী এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল অবস্থায় পড়েছে। খরসূতী সরকারি কলেজ থেকে খরসূতী ঈদগাহ পর্যন্ত ইটের সলিং করা সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির ইট উঠে গিয়ে কোথাও কোথাও মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভাঙা ইট ও গর্তের কারণে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রায়ই হোঁচট খেয়ে আহত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খরসূতী সরকারি কলেজ থেকে খরসূতী ঈদগাহ পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় আধা কিলোমিটারের কিছু বেশি। ছোট এই সড়কটি স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সড়কের পূর্ব পাশে রয়েছে খরসূতী ঈদগাহ ময়দান। দুই ঈদের সময় ময়না, ঘোষপুর, সাতৈর ও গুনবহাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে আসেন।
এ ছাড়া এ এলাকায় রয়েছে বেলজানী-খরসূতী কাশেমুল উলুম মাদরাসা, একটি মহিলা মাদরাসা ও বর্ণী বাজার। অন্যদিকে সড়কের পশ্চিম পাশে রয়েছে খরসূতী সরকারি কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দ্রকিশোর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডাকঘর ও খরসূতী বাজার।
স্থানীয়দের পাশাপাশি মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষও এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বানিয়াড়ী, হাটখোলা, রানীদৌলা-কুঠি ও ইচাখালীসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষেরও সড়কটির ওপর নির্ভরতা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দৈনিক পুনরুত্থানের সহযোগী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মিজান উর রহমান জানান, ১৯৯১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য প্রয়াত আব্দুর রউফ মিয়ার উদ্যোগে ফরিদপুর চিনিকলের বরাদ্দের মাধ্যমে সড়কটিতে ইটের সলিং করা হয়েছিল। এরপর প্রায় সাড়ে তিন দশক পেরিয়ে গেলেও বড় ধরনের সংস্কার হয়নি বলে তাঁর দাবি।
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের ইট উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির পাশাপাশি ভাঙা ইটের কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময় তাদের ভাঙা ইট ও খানাখন্দ পেরিয়ে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, চলাচলের অনুপযোগী সড়কের কারণে ছোট শিক্ষার্থীদের হোঁচট খেয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সড়কটি দ্রুত পুনর্র্নিমাণ ও পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস মোল্লার কাছে সড়কটি পুনর্র্নিমাণের দাবি জানানো হলে তিনি দ্রুত পাকাকরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ময়না ইউনিয়নের জামায়াত আমির মো. আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, সড়কটি পাকাকরণের বিষয়টি সংসদ সদস্যকে গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে। পরবর্তী বাজেটে বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
