আল্লাহর কাছে প্রিয় ৩টি আমল - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, অক্টোবর ০২, ২০২৬

আল্লাহর কাছে প্রিয় ৩টি আমল

 

আল্লাহর কাছে প্রিয় ৩টি আমল
আল্লাহর কাছে প্রিয় ৩টি আমল



হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী:

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা‘দ।

সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনগুলো? জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—সময়মতো নামাজ আদায় করা।


ইবনে মাসউদ (রা.) আবার জানতে চাইলে তিনি বলেন, মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করা। এরপর আরও একটি আমল সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা। —সহিহ বুখারি ও মুসলিম


এই হাদিসে মুসলমানের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন মুমিনের উচিত এসব আমলের গুরুত্ব অনুধাবন করে নিজের জীবনে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা।


১. সময়মতো নামাজ আদায়:

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। ঈমানের পর নামাজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কোরআন ও হাদিসে নামাজ আদায়ের প্রতি বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সফল হয়েছে মুমিনরা, যারা তাদের নামাজে বিনয়ী।’ —সূরা আল-মুমিনুন: ১-২


নামাজ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; বরং এটি মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধি ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম। তাই ওয়াক্তের প্রতি যতœশীল হয়ে একনিষ্ঠতা ও বিনয়ের সঙ্গে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


২. মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ:

আল্লাহর কাছে প্রিয় দ্বিতীয় আমল হিসেবে হাদিসে মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম মা-বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।


পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করতে এবং মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করতে।’ —সূরা আল-ইসরা: ২৩


বিশেষ করে মা-বাবা বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের সঙ্গে নম্র ও সম্মানজনক আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে কটু কথা বলা, বিরক্তি প্রকাশ করা কিংবা তাদের মনে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা সন্তানের কর্তব্য।


মা-বাবার সেবা ও তাদের প্রতি সদাচরণ মানুষের জন্য বড় নেক আমল। তাই জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও তাদের অধিকার ও প্রয়োজনের প্রতি যতœশীল হওয়া উচিত।


৩. আল্লাহর পথে সংগ্রাম ও কল্যাণের প্রচেষ্টা:

হাদিসে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে আল্লাহর পথে সংগ্রামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ‘জিহাদ’ শব্দের বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক অর্থ রয়েছে; এর মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ন্যায় ও কল্যাণের পথে আন্তরিক চেষ্টা-প্রচেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত।


একজন মুসলমানের উচিত নিজের নফসের সংশোধন, ভালো কাজের প্রচার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান এবং মানুষের কল্যাণে সাধ্যানুযায়ী কাজ করা। ইসলামি মূল্যবোধ ও মানবিকতার আলোকে সমাজে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ।


তবে কোনো ধরনের সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ইসলামি নৈতিকতার বিকল্প নয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা যেকোনো প্রচেষ্টায় ন্যায়, সংযম ও বৈধতার সীমা বজায় রাখা জরুরি।


তিন আমলের শিক্ষা:

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণিত এই হাদিস মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। সময়মতো নামাজ আদায়, মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কল্যাণকর প্রচেষ্টা—এই তিনটি আমল মানুষের ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এসব আমল পালনে যতœবান হওয়া এবং অন্যদেরও ভালো কাজে উৎসাহিত করা।


মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে নেক আমল করার এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।




Post Top Ad

Responsive Ads Here