কোটা একটি রাজনৈতিক সৃষ্টি-ধ্বংশ করছে মেধাকে।। - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, মার্চ ২৪, ২০১৮

কোটা একটি রাজনৈতিক সৃষ্টি-ধ্বংশ করছে মেধাকে।।

S.S Desk:

মহাভারতে কর্ণকে তার সামর্থ্যের পরিচয় দিতে দেওয়া হয়নি শুধু শূত পুত্র বলে।
তখন জন্ম অনুযায়ী ক্ষত্রিয় না হলে ধনুরধারী হওয়া যায় না।
কিন্তু কর্ণই ছিল মহাভারতের ইতিহাসে বড় যোদ্ধা।

যার তীর অর্জুনের রথকে দুই পা পিছিয়ে দিয়েছিল।অথচ সেই রথে লাগাম ধরেছিল বাসুদেব কৃষ্ণ,রথের দ্বজায় উপবিষ্ট ছিল পবন পুত্র হনুমান।

অনেক আগে মহাভারত নিয়ে আমার আগ্রহ থাকায় আমি মহাভারত পড়েছি,এটা একটা পৌরাণিক গল্প।

শুধু জন্মের কারণে কারোর মেধার আর সামর্থ্যের পরিচয় দিতে দেওয়া হতো না।

বর্তমান বাংলাদেশে জন্মই ঠিক করে দেয় তার চাকরী প্রাপ্তি।
অন্যরা মেধাবী আর সামর্থ্যবান হলেও  এখানে সুযোগ দেওয়া হয় না।

এই দেশে সরকারী চাকুরীর ৫৬% কৌটায় চলে যায়,বাকী ৪৬% সাধারণ মেধার।
দেশের অর্ধেকের বেশি অংশের প্রতি এই সহানুভূতি কেনো?

কারণ কৌটা একটি রাজনৈতিক সৃষ্টি।
বর্তমান সরকারের ঠিকে থাকার ভিত্তি হলো এই কৌটা সিস্টেম।
দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে হাতে রাখার সবচেয়ে বড় পন্থা হলো এই কৌটা সিস্টেম।

নারীর উন্নয়ন দেখানোর জন্য বড় ভূমিকা রাখে এই কৌটা সিস্টেম।
এমপি'র পিএসদের আয়ের আরেকটা পথ হলো জেলা কৌটা।
১০%জেলা কোটা ১০% নারী কোটা কারা পায় এই পর্যন্ত কারা পেয়েছে বলতে পারবে কেউ?
কারা এই কোটার জন্য যোগ্য?

ঘুষ দিয়ে এই দুই কৌটায় চাকরী বেশি হওয়ার পরিসংখ্যান বেশি।
শুধু প্রতিবন্ধী কৌটায় দুর্নীতি হয় না বলেই চলে।

কিন্তু এই সোনার বাংলাদেশে আমি এমনও দেখেছি এই প্রতিবন্ধী কোটার জন্য নিজ ইচ্ছায় প্রতিবন্ধী হতে।
ভাবতে পারছেন?কিসের অভাবে একটা ছেলে নিজ ইচ্ছায় প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে?

দেশে এখন যত মুক্তিযোদ্ধা আছে তত মুক্তিযোদ্ধা ৭১ সালেও ছিল না(কিভাবে নতুন মুক্তিযোদ্ধা হয় তা নিয়ে  অনেক লেখা আছে এবং বিভিন্ন টিভি অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারিও আছে)
মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।কারণ ৩৪ হাজারের বেশি নতুন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে মন্ত্রণালয়ে।

সেই মহান মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র ও নাতী নাতনিদের দেওয়া ১৫%+১৫% কৌটা ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করলে জামাত শিবির বলে ট্যাগ দিলেইও মেনে নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই।

কারণ আমি মেধার মূল্যায়নের  কথা বলতে আসছি।সংবিধান আমায় অধিকার দিয়েছে কথা বলার।
এখন আপনারা অধিক পবিত্র আর চেতনার মশাল হাতে নিয়ে আমাদের দৌড়াতে আসলে আমরা পালাবো না।

কোনো নিয়োগে দেখাতে পারবেন ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কৌটার মালিকরা তারা আহামরি কিছু করে দেখিয়েছি?
তারাও জেনে গেছে জন্মসূত্রে এই দেশের সকল অধিকার পেয়ে গেছে।

সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষনার পরও কিভাবে
জেলা কৌটা,নারী কৌটা,উপজাতি কৌটা থাকে?
যুক্তি আছে কি এসব কৌটার পক্ষে?

সকল জেলায় সমান তালে উন্নয়ন পৌঁছেছে,তাহলে জেলা কৌটা বাতিল দরকার।
নারীরা বাংলাদেশে সমান তালে এগিয়েছে,তাহলে তাদের এই কৌটাও বাতিল দরকার।
উপজাতি কৌটা,সরকার তিন পার্বত্য এলাকাকে সমান তালে এগিয়ে নিয়েছে তাহলে এই উপজাতি কোটা কেনো আর কেনো,যেহেতু তারা আর পিছিয়ে নেই।

বাকী রইল ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কৌটা।
আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান রেখে তাদের সন্তানাদি পৈতৃক অবদানের জন্য তাদের দেওয়া অধিক বৈষম্য কৌটার সংষ্কার চাই।
সেই কৌটা ২০% নামিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সেই উপলক্ষে আগামীকাল (রবিবার) দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরর শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে জড়ো হচ্ছি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের জন্য।

অনুমোদিত মানববন্ধনে আশা করি আসবেন,কারণ কৌটা প্রথা সংষ্কার নিয়ে এখনই কথা বলার সময়।
সারাদেশে একযোগে কথা বলছে,আপনিও বলেন।
সময় চলে গেলে আর কথা কেউ শুনবে না।

মেধার মূল্যায়ন হোক,কৌটা ব্যবস্থার সংস্কার হোক।

মিজানুর রহমান নোবেল
শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Post Top Ad

Responsive Ads Here