গাংনীতে জোরপুর্বক স্কুল দখল ; মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ।।সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, মে ১৫, ২০১৮

গাংনীতে জোরপুর্বক স্কুল দখল ; মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ।।সময় সংবাদ

মেহের আমজাদ,মেহেরপুর 
মেহেরপুরের গাংনী থানাপাড়ায় অবস্থিত নতুনকুঁড়ি শিশু শিক্ষালয় নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জোরপুর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে দু’জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু স্কুল দখলই নয় স্কুল মালিক শানঘাট পল্লী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মহিবুল আলম ওহিদ ও তার স্ত্রীর নামে মিথ্যা মামলাও দেয়া হয়েছে। মামলা, হামলা ও গ্রেফতার আতংকে বাড়িছাড়া মহিবুল আলম ওহিদ। এসব অভিযোগ করে প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে তথ্য প্রমাণ করেছেন মহিবুল।
অভিযোগে জানা গেছে, শানঘাট পল্লী উন্নয়ন সংস্থা ২০১৬ সালে নতুনকুুঁড়ি শিশু শিক্ষালয় নামের  স্কুলটি ক্রয় করে। প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া বাড়িতে থাকায় সংস্থার সাথে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভাড়া চুক্তি রয়েছে। মালিকানা পাওয়ার পর শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন শানঘাট পল্লী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মহিবুল আলম ওহিদ। নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১৬ সালের ২ এপ্রিল গাংনী বিশ^াসপাড়ার শাহনুর আলমের স্ত্রী হুরে জান্নাত ও গাংনী বাগানপাড়ার হাসানুজ্জামানের স্ত্রী শামীমা খাতুনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় সংস্থাটি। নিয়োগ পাওয়ার পর দুই বছর শিক্ষকরা স্কুলটি হস্তগত করতে ষড়যন্ত্র শুরু করে। স্কুল পরিচালনার নিয়মনীতি অগ্রাহ্য করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে স্কুল চালাতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে স্কুল মালিক মহিবুল ইসলাম ওহিদকে হুমকি দেয় শিক্ষক ও তার লোকজন। ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে সংস্থার নির্বাহী পরিষদ চলতি বছরের ১মার্চ দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দিয়ে পত্র প্রদান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকরা জোরপুর্বক স্কুলে অবস্থান করতে থাকে এবং ১০মার্চ বিকেলে মহিবুলকে কৌশলে স্কুলে ডেকে নিয়ে অপদস্থ করে। স্কুলের মালিকানা দুই শিক্ষকের নামে লিখে দিতে জোরপুর্বক সাদা স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় শিক্ষক, তাদের স্বামী ও তাদের পক্ষের কিছু লোক। সই নিতে ব্যর্থ হলেও স্কুলের সাইনবোর্ড থেকে শানঘাট পল্লী উন্নয়ন সংস্থার নাম ও মোবাইল নম্বর মুছে দিয়ে দুই শিক্ষকের মোবাইল নম্বর লেখা হয়।
মহিবুল আলম বলেন, তারা স্কুলের মালিকানার কাগজপত্র করতে না পেরে আমার ও আমার স্ত্রীর নামে আদালতে এবং থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এছাড়াও স্কুলে গেলে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এতে আমি স্কুলেও যেতে পারছি না। প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেছি। আমার স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। কোনদিনই তিনি আমার শিশু শিক্ষালয়ে যাননি। তারপরেও তিনি মিথ্যা মামলা থেকে রেহায় পাননি। শুধু এই মামলা নয়, গত ১১ এপ্রিল এক শিক্ষিকা আমার নামে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
মহিবুল আলমের অভিযোগ, ওই শিক্ষকরা গাংনী থানার ওসি তদন্ত সাজেদুল ইসলামের  কাছে ঘটনার শুরুতেই একটি মিথ্যা অভিযোগ করে। এর প্রেক্ষিতে ওসি তদন্ত মহিবুলকে চাপ প্রয়োগ করেছেন। এছাড়াও মহিবুলের দায়ের করা মামলাটি তদন্তভার পেয়ে শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
তিনি অভিযোগে আরো বলেন, শিক্ষক হুরে জান্নাত ও শামীমা আক্তারকে গত ১মার্চ থেকে বিধিবদ্ধভাবে অব্যহতি দিয়েছি। তাহলে তারা চাকুরী করে কিভাবে? প্রকৃতপক্ষে আমার বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমি কি ন্যায় বিচার পাবো না? দুই শিক্ষক ও দুই শিক্ষকের স্বামী তাদের ঘনিষ্ট আত্মীয় মিজানুর রহমান রানার মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। একাজে সহায়তা করছেন ওসি তদন্ত। মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয়ে আমি এখন বাড়িছাড়া। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণ ও স্কুলের দখল ফিরে পেতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন মহিবুল আলম ওহিদ।

Post Top Ad

Responsive Ads Here