বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া ডিগ্রি কলেজের দুই সিনিয়র শিক্ষককে ছোট্ট ভুলে এখন খেসারত দিতে হচ্ছে। কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক তৃপ্তি রানী দত্ত ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক প্রণবেন্দ্র নাথ মৈত্র সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি নিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে গিয়ে প্রতিজন মাত্র একটি কাগজে কলেজের সভাপতি ইউএনও আনোয়ার পারভেজের স্বাক্ষর কম্পিউটারে স্ক্যান করে বসালে এই বিপত্তি ঘটে। কারণ ওই সময় ইউএনও ব্যক্তিগত ছুটি নিয়ে ভারতে অবস্থান করছিলেন।
এ বিষয়ে ওই কলেজের এক নারী প্রভাষকের স্বামী কলেজের অধ্যক্ষের টেবিলে দুই শিক্ষকের পদোন্নতির কাগজপত্র গুলো ঘেঁটে দেখতে গিয়ে স্বাক্ষর স্ক্যানের ঘটনাটি আবিস্কার করে তা ইউএনও-কে অবহিত করেন। পরে ইউএনও তার কার্যালয়ে ডেকে অধ্যক্ষের মাধ্যমে গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রভাষক তৃপ্তি রানী দত্ত ও প্রণবেন্দ্র নাথ মৈত্রকে এ বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষক জানান, এপি (এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর) হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার জন্য অনেকগুলো কাগজ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে হয়। কাগজগুলো সবগুলোই কলেজের সভাপতি ইউএনও স্যার স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। কিন্তু পরে চেক করে দেখি একটি মাত্র কাগজ সংযুক্ত করা হয়নি। এদিকে ইউএনও স্যার ভারতে চলে গেছেন। কিন্তু সময়মতো কাগজগুলো জমা দেয়ার দরকার। তাই ওই একটি কাগজে স্যারের স্বাক্ষর স্ক্যান করে বসিয়ে দেয়া হয়েছিলো। ওই দুই শিক্ষক এই কাজের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত বলে জানিয়ে আরও জানান, স্যার ক্ষমা করলে করবেন, না করলে ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরিমল কুমার দাস জানান, প্রায় ২৬ বছর ধরে ওই দুই শিক্ষক নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে এই কলেজে শিক্ষকতা করে আসছেন। তারা কি বুঝে এই ভুল করলেন তা তার বোধগম্য নয়।ইউএনও আনোয়ার পারভেজ জানান, কারণ দর্শানোর জবাব দিতে নোটিশ করা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

