আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- হবিগঞ্জে লাখো জনতার অংশগ্রহণে এমপি আবু জাহিরের শোডাউন হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই-শায়স্তাগঞ্জ) আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবু জাহিরের পক্ষে প্রায় ১ লাখ জনতার উপস্থিতিতে হবিগঞ্জ শহরে বিশাল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে এই মিছিলের আয়োজন করে হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাবাসী। গত ১০ বছরে হবিগঞ্জে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়নসহ যুগান্তকারী উন্নয়ন করায় আয়োজন করা হয় এই মিছিলের।
সোমবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জ-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জড়ো হতে থাকে হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায়। পরে খন্ড খন্ড মিছিলের মাধ্যমে সবাই একত্রিত হন কেন্দ্রীয় ঈদগাহে। অংশগ্রহণকারীরা রং বেরঙ্গের টি-শার্ট ও ক্যাপ পরিহিত অবস্থায় এই মিছিলে অংশ নেন। ছিল বিভিন্ন উন্নয়ন এর ছবি এবং বর্ণনা সম্বলিত ফেস্টুন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এমপি আবু জাহিরের ছবিও ছিল অনেকের হাতে। রং বেরঙ্গের নৌকা এবং বৈঠা নিয়েও হাজির হন অনেকেই। হাজার হাজার ভুভুজেলা বাশির সুরের মুর্ছনায় ছিল উৎসবের পরিবেশ। ছিল শিল্পীদের গানের দলের একাধিক গাড়ী ও ব্যান্ড পার্টি। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট, সকল সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনও মিছিলে যোগ দেয় আলাদা ব্যানারে।
ছবি ধারণ করার জন্য হবিগঞ্জের আকাশে প্রথমবারের ন্যায় উড়ানো হয় ড্রোন এর মাধ্যমে ক্যামেরা। রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার লোক ভীড় জমান এই মিছিল দেখার জন্য।
কেন্দ্রীয় ইদগাহের ফটকে শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পূর্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি। অন্যান্যের মাঝে বক্তৃতা করেন আওয়ামীলীগ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল ইক চৌধুরী, আরব আলী, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক এডভোকেট লুৎফুর রহমান তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম, সদস্য আব্দুর রহিম, এডভোকেট সুলতান মাহমুদ, শঙ্খ শুভ্র রায়, হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটো, সাধারন সম্পাদক মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট আব্দুল আহাদ ফারুক, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, লাখাই উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ, শায়েস্তাগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি ছালেক মিয়া, চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট আকবর হোসেন জিতু, জেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক বোরহান চৌধুরী,
জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহি।
পরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান সদক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ঈদগাহে আসার পর শেষ হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এডভোকেট মোঃ আবু জাহির বলেন, হবিগঞ্জের মাটির সন্তান হিসেবে যখন আমাকে নির্বাচিত করা হয়; তখন এলাকার উন্নয়ন কাজকে নিজের কাজ মনে করে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজসহ অবহেলিত হবিগঞ্জকে পরিণত করেছি একটি আলোকিত জেলায়। বিগত ৪০ বছরে যে কাজ হয়নি; আমি ১০ বছরে এর চেয়ে অনেক বেশি উন্নয়ন কাজ করেছি। তবে আরো বেশি উন্নয়ন করার স্বপ্ন আমি এখনও লালন করি। হবিগঞ্জবাসীর খেদমত করায় এর আগে আমাকে সর্বদলীয়ভাবে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এবার আমার নেতাকর্মীরা আয়োজন করেছেন ইতিহাসের সর্ববৃহৎ শোভাযাত্রার।
এই আয়োজনের জন্য আমি আমার নেতাকর্মী এবং নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি প্রতিদান পাওয়ার জন্য কোনও কাজ করি না।
এলাকার উন্নয়ন কাজকে আমি নৈতিক দায়িত্ব এবং ইবাদত মনে করে রাজনীতি করে যাচ্ছি। তারপরও জনগণ যখন প্রতিদান হিসাবে আমার প্রতি ভালবাসা দেখান; তখন আমার দায়িত্ববোধ আরো বেড়ে যায়।
সুযোগ পেলে আগামীতে হবিগঞ্জকে একটি উন্নত জেলায় রূপান্তর করব ইনশাল্লাহ।
এ সময় তিনি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কিনা জানতে চাইলে সকলেই হাত তোলে তাকে সমর্থন জানান।
আয়োজকরা জানান, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সফল করতে এবং ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রিজার্ভ করা হয়েছিল ২০০ বাস, ৫০টি ট্রাক, ৭০টি ইমা (ইউমেন ওলার)এবং প্রায় ৩ হাজার সিএনজি-অটোরিক্সা এবং ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক টমটম। কার এলাকা থেকে বেশী লোক আসে তার জন্য ছিল রীতিমত প্রতিযোগিতা।
