হাফিজুর রহমান.টাঙ্গাইল- টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মধুপুর গড় এলাকার বহু পুরানো বাংলাদেশ বন বিভাগের চাড়ালজানি ফরেষ্ট রেঞ্জ অফিস থেকে কোমলবাইদ পর্যন্ত পাকা হলেও বাকী ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা উপজেলার শিবগঞ্জ রাস্তাটি স্বাধীনতার পর থেকে এখনো পাঁকার মুখ দেখেনি।
রাস্তাটি বেহাল দশা থাকায় এ অঞ্চলের জনসাধারণের চলাচলে চরম দূর্ভোগে পড়েছে। সড়কটি স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৭ বছর পরেও সংস্কারের মুখ দেখেনি। লালমাটি অধ্যূষিত কৃষি নির্ভর বেরীবাইদ, অরনখোলা, আউশনারা,মহিষমারা, এ চার ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মুসলমান ও আদিবাসী গারো স¤প্রদায়ের প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ কৃষকের পণ্য আনা-নেয়ার একমাত্র প্রধান সড়ক এটি। সড়কটি সংস্কার না করায় আদিবাসী গারো স¤প্রদায় সহ স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মধুপুরের বাংলাদেশ বন বিভাগের চাড়ালজানি রেঞ্জ অফিস হয়ে ক কোমলবাইদ পর্যন্ত পাকা হলেও বাকী কোমলবাইদ থেকে ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা উপজেলার শিবগঞ্জ সড়কটি পাকিস্তান আমলে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাথে সংযুক্ত হয়েছে। এ সড়কটি আউশনারা ও অরণখোলা ইউনিয়ন পরবর্তীতে অরনখোলা ইউনিয়ন ভাগের ফলে বেরীবাইদ ও মহিষমারা ইউনিয়নের সীমান্ত সড়ক হওয়ার কারণে কোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সড়কটিকে গুরুত্ব দেননা। ফলে যুগের পর যুগ ধরে অবহেলিত রয়েছে, সড়কটি স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৭ বছরেও পাঁকার মুখ দেখেনি। সড়কটি দিয়ে বেরীবাইদ, অরনখোলা, মহিষমারা ও আউশনারা ইউনিয়ন ও মুক্তাগাছা উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে। সড়কটি আদিবাসী ও এসব এলাকার কৃষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ সড়ক দিয়ে আনারস, কলা, আদা, হলুদ, পেঁপে, কচুসহ নানা কৃষি ফসল বাজারে নিয়ে যেতে হয়। রাস্তা কাঁচা থাকার ফলে কৃষকদের চলাচলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষাকালে দুর্ভোগের মাত্রা আরোও বেড়ে যায়। কাঁদা জলে একাকার হয়ে পড়ে সড়কটি। উৎপাদিত কৃষি পণ্য পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয় অথবা কয়েক গুন ভাড়া বেশি দিয়ে কাঁচা মাল বাজারে নিতে হয়। এজন্য কৃষি ক্ষেত্রে এ এলাকার কৃষকরা নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ফসল উৎপাদন করেও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাগন্তিনগর থেকে মোটের বাজার অংশের অবস্থা আরও করুণ। ওই এলাকার অর্থনীতির চালিকা শক্তি কৃষি। কৃষকরা তাদের কৃষি পণ্য নিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছে। কাঁচামাল পরিবহনে তাদের দিগুন ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সড়কটি পাকা করণের দাবী এলাকাবাসীর।
মাগন্তিনগর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণীর ছাত্র আতিকুর রহমান ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ইতি আক্তার ও মধুপুর শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের ছাত্রী সিফা আক্তার, আলমগীর হোসেন এরা জানান, বর্ষাকালে আমাদের স্কুল-কলেজে যেতে অনেক কষ্ট করতে হয় প্রায় প্রায়ই ঘটে দূর্ঘটনা। এবং কী এই এলাকার লোকজনদের হাট-বাজারে যাতায়াত করতে সীমাহীন কষ্ট করতে হয়। এ গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যেতেও মারাত্মক সমস্যা হয়। এলাকাটি কৃষি নির্ভর হওয়ায় এলাকার সিংহভাগ মানুষ আনারস- কলাসহ নানা কৃষি ফসল উৎপাদন করে থাকে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। খরচও বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
একই গ্রামের বাসিন্দা ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের শিক্ষার্থী ঝুমা আক্তার জানান, সংসদ নির্বাচনে এ অঞ্চলের ভোটাররা বর্ষাকালে তাদের অনেকেই ভোট দিতে যেতে পারেননা । এ জন্য তারা রাস্তাটি পাকা করণের দাবী জানান।
মাগন্তিনগর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন জানান,আমাদের এই রাস্তাটি পাকা হওয়া অতি জরুরী রাস্তাটি কাঁচা থাকায় বৃষ্টির দিনে ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না। এতে করে ছেলে মেয়ে দের লেখা পড়ার অনেক ক্ষতি হয়। রাস্তাটি পাঁকা হোক এটাই আমাদের একমাত্র দাবী।
৩ নং বেরীবাইদ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান মো.গাজীউর রহমান জানান, কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রæত সড়কটি পাঁকা করা প্রয়োজন। বর্ষাকালে তাদের দুঃখ- দুর্দশা প্রকট আকার ধারণ করে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও শুধুমাত্র প্রতিশ্রæতি ছাড়া তারা কিছু পাননি।
বেরীবাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জুলহাস উদ্দিন জানান, পাকিস্তান আমল থেকে সড়কটি অবহেলিত। দুই ইউনিয়নের সীমানা সড়ক হওয়ার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে প্রকল্প দেয়া সম্ভব হয়না। অথচ কৃষি পণ্য সরবরাহ সহ নানা কারণে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাটির দুরাবস্থা থাকায় এলাকার জনসাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই। তিনি সড়কটি দ্রæত পাকা করণের দাবী জানান।

