মেহের আমজাদ,মেহেরপুর-মেহেরপুরে আত্মহত্যার প্ররোচণায় স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত স্কুল ছাত্রী দিপার মামা সাইদুর রহমান ৬ জনকে আসামি করে মেহেরপুর আদালতে একটি মামলা করেছেন। এদিকে সুষ্ঠু বিচার দাবিতে আত্মহত্যাকারী স্কুল ছাত্রী দিপার মা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মেহেরপুর প্রেস ক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
![]() |
| নিহত দিপা |
সংবাদ সম্মেলন ও লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মেহেরপুর পৌর কলেজপাড়ার (৪নং ওয়ার্ড, মেহেরপুর পৌরসভা) দীন মোহাম্মদের একমাত্র কন্যা দিপা খাতুন মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। সুন্দরী পাত্রী দিপা নাবালিকা হওয়ায় মেহেরপুর গাংনী উপজেলার হিন্দা ভিটাপাড়া গ্রামের মোঃ লালুর ছেলে ইলিয়াস হোসেন ও তার পরিবারের চাপে বিয়ে পড়ানোর পরিবর্তে গত ২০ এপ্রিল আংটি পরানো হয়। আংটি পরানো দিপার জন্য মৃত্যুর কাল হয়ে দাঁড়ায়। এরপর থেকে দিপাকে কাছে পেতে হবু স্বামী ইলিয়াস হোসেন ব্যাকুল হয়ে উঠে। বাধ্য হয়ে দিপার মা বিউটি খাতুন দিপাকে সাথে নিয়ে হিন্দা গ্রামে তার চাচাতো বোনের বাড়িতে যায়। দিপাকে ইলিয়াসের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় ইলিয়াস ও তার পরিবার দিপাকে আটকে রাখার জন্য নানা অপকৌশল শুরু করে। ঘরে বউ রাখার জন্য জন্য বিতর্ক করে ইলিয়াসের পরিবারের লোকজন। তার দিপার মাকে মারধর করে এবং দিপাকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়। দিপার অন্যের সাথে সম্পর্ক আছে- এমন কথা বলতেও দ্বিধা করেনি হবু স্বামী ইলিয়াস। এভাবে মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন করে আটকে রাখে তারা। পরবর্তীতে মেহেরপুর থেকে দিপার বাবা ও মামা হিন্দা ভিটাপাড়ায় গিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের সাথে নিয়ে দিপাকে উদ্ধার করে মেহেরপুরে নেয়। পরবর্তীতে দিপাকে তার হবু স্বামী বিভিন্ন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মানসিক টর্চার করতে থাকে। দিপার বান্ধবী ও আত্মীয়দের জনায় দিপার সাথে তার শারিরিক সর্ম্পক হয়েছে। এখন সে আর আমাকে পছন্দ না করে অন্যের সাথে সম্পর্ক করেছে। আমি তাকে কোন ঘরে সুখি হতে দেবনা। তাকে চরিত্রহীন অপবাদ দিয়ে আত্মহত্যার করতে বলে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে দিপা। মানসিক যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে গত ১৮ আগষ্ট/১৮ নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেচিয়ে আড়ায় ঝুলে আত্মহত্যা করে। এঘটনায় দেরিতে হলেও দিপার মামা সাইদুর রহমান বাদি হয়ে ঘটনার নায়ক আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারী ইলিয়াস হোসেনসহ তার (ইলিয়াসের) পরিবারের মোট ৬ জনকে আসামি করে মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্্েরট আদালতে পেনাল কোডে (৩০৫ ধারা) একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ ন্যায় বিচার দাবি করেছেন। মামলা চলা অবস্থায় অভিযুক্ত পক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা দিয়ে নিষ্পত্তি করার জন্য বাদী পক্ষের নিকট প্রস্তাব দেয়। বাদী পক্ষ এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তারা অন্য ব্যবস্থা নেবে বলে হুমকী দেয়।
এঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোমিনুর বলেন- তদন্ত শেষ হয়েছে। আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে মামলার বাদী সাইদুর রহমান ও সংবাদ সম্মেলনে দিপার মা বিউটি খাতুন জানান- চরিত্রহীনতার অপবাদ ও মানসিক যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে স্কুল ছাত্রী দিপা আত্মহত্যা করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোমিনুর সে বিষয়ে না গিয়ে অন্যভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। তাছাড়া উপদেশ দিয়ে বলেছেন কোর্টে নারাজি দেয়ার জন্য। বিউটি খাতুন বলেন- আমি পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হয়েও কোন বিচার পাচ্ছিনা। বাধ্য হলাম সংবাদ সম্মেলন করতে।এসময় নিহত দিপার মামা সাইদুর রহমানসহ মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


