এম আজিজুল হক পান্না-
বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও যুগপযোগী করার লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার ন্যায় এবার এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমলে নিচ্ছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার একই মান নিয়ে এ দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। বর্তমান সরকার এক সাথে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করন করেন। এর ফলে বঞ্চিত হয় এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা । মাদ্রাসার অনেক শিক্ষকরা বিনা বেতনে চাকুরী করেন দীর্ঘ দিন ধরে । তাদের দাবী দেশে একই মানে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করন হলে আমাদের হবে না কেন ? যার ফলশ্রুতিতে মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আন্দোলন , স্বারকলিপি প্রদান করেন । এতে সরকার কোন সাড়া না দিলে সরকারীকরনের দাবীতে গত ৩০ মে সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা , মানববন্ধন শেষে জাতীয়করনের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী ,শিক্ষামন্ত্রী , শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর নিকট স্বারকলিপি দেওয়া হয়। এর আগে গত ১ জানুয়ারি েেথকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা , পরে ৯ জানুয়ারি থেকে লাগাতার আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেন ,টানা ৮ দিন পর সরকারের পক্ষে আশ্বাস দিয়ে ১৬ জানুয়ারি মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের সচিব মোঃ আলমগীর হোসেন শিক্ষকদের অনশন ভঙ্গ করান। শিক্ষকদের দাবী পূরুনের লক্ষ্যে মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রওনক আহম্মেদকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয় । কমিটি একাধিকবার সভা করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করেন। প্রতিবেদনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ২০ শে সেপ্টেম্বও অনুমোদন দেন। অনুমোদনের পরে তা অর্থমন্ত্রণালয়ে প্রেরন করেন । অর্থমন্ত্রণালয় গত ৭ই নভেম্বর অনুমোদন দেওয়ার ফলে এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষদের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে যাচ্ছে বলে মনে করেন এবতেদায়ী মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষকরা । উল্লেখ্য সারাদেশে পনের হাজার ২৪৩ জন শিক্ষক এবতেদায়ী মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন।


