চরভদ্রাসনে স্কুলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবীতে মানববন্ধন - SHOMOYSANGBAD.COM

শিরোনাম

Thursday, April 18, 2019

চরভদ্রাসনে স্কুলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবীতে মানববন্ধন

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি-
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরহাজীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫ শতাংশ জমি জুড়ে দখলকৃত ১২টি দোকান ঘর উচ্ছেদের দাবী নিয়ে বুধবার দুপুর ১২ টায় চরহাজীগঞ্জ বাজারে মনাববন্ধন কর্মসূচী করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রছাত্রী।

 ২০০০ ইং সালে পদ্মা নদীর ভাঙনে উক্ত বিদ্যালয়ের আংশীক জমি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর স্কুলটি পার্শ্ববতী চর অমরাপুর গ্রামে পূনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে চরহাজীগঞ্জ বাজার ঘেষে বিদ্যালয়ের মোট ১৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে গত ১৮ বছর ধরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে জবর দখল করে রেখেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তাই বুধবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবী নিয়ে প্রায় এক ঘন্টাকাল হাতে হাত ধরে সারিবদ্ধ দাড়িয়ে দাবী দাওয়া তুলে ধরেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে জানান।

 মানববন্ধন কর্মসূচীর সভাপতিত্ব করেন উক্ত বিদ্যালয়ের সদস্য ও চরহাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ কবিরুল আলম। মানববন্ধনের সার্বিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করেন বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আজাদ আবুল কালাম। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবী তুলে ধরে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য দেন, বিদ্যালয় কার্যকর কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, নাজিম প্রামানিক, মোহাম্মদ মোল্যা, রাজা খান ও দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সীশা আক্তার প্রমূখ। 
মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০০০ সালে উপজেলার চরহাজীগঞ্জ বাজারের চারপাশে পদ্মা নদীর প্রবল ভাঙনের সময় স্কুলটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। সে সময়ে মানবিক কারনে স্কুলের জমিতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ঘর তুলে আশ্রয় নেওয়ার পর এখন তারা মালিকানা স্বত্ত দাবী করে চলেছেন। উপজেলার ৩ নং চরহাজীগঞ্জ মৌজার এসএ ৭৯৮ নং খতিয়ানে ১২৬০ নং দাগে উক্ত বিদ্যালয়ের ২৫০ শতাংশ জমির মধ্যে চরহাজীগঞ্জ বাজার ঘেষে রয়েছে মূল্যবান ১৫ শতাংশ জমি। দখলদাররা বিদ্যালয়ের সেই মূল্যবান জমিটুকু বেহাত করে রেখেছে বলে অভিযোগ। 
গত কয়েক বছর আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দিলে দখলদার মোহাম্মদ আলী গং বাদী হয়ে ফরিদপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৫৮/২০১২। গত ৭ ফেব্রæয়ারী বিজ্ঞ সহকারী জজ শান্তা আক্তার মামলাটি খারিজ করে রায় দেন। এরপরও দখলদাররা স্কুলের জমি ছাড়ছে বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে দখলদার ব্যবসায়ী শেখ আঃ কাদের (৫০)কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “ নিম্ন আদালতের রায় আমাদের বিপক্ষে গিয়েছে, আমরা উচ্চ আদালতে আপীল করেছি। কাজেই আপীলের রায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা স্থাপনা সরাবো না”। আরেক দখলদার শেখ ইলিয়াছ বলেন, “ স্কুলের জমিতে মোট ১২টি দোকান রয়েছে, অন্যরা যা করেন আমিও তাই করবো”।

No comments:

Post a Comment